যন্তরমন্তরের আন্দোলন ঘিরে চরম উত্তেজনা! অনশনের প্রথম দিনেই কালি-হামলার শিকার হলেন অভিজিৎ দীপকে। সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর, অনশনে বসেছেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। কিন্তু প্রথম দিনেই অনশনমঞ্চে তাঁর দিকে কালি ছুড়ে দেন এক মহিলা। ইতিমধ্যেই সেই মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, সোনম -সিজেপির দাবিকে সমর্থন করে যন্তরমন্তরের 'ক্রান্তি কর্নার'-এ এবার আমরণ অনশনের ডাক দিয়েছে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SFI)। সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি কমরেড আদর্শ এম সাজি এবং সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক তথা দিল্লি রাজ্য সম্পাদক কমরেড ঐশী ঘোষ যৌথভাবে এই অনির্দিষ্টকালীন অনশনে বসছেন। এদিন যন্তরমন্তরে এই লড়াইয়ে সামিল হতে দেখা যায় বর্ষীয়ান সিপিআই(এম) নেত্রী বৃন্দা কারাতকে। কেন্দ্রের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি।
আরও পড়ুন: আদালতের নির্দেশের ভুল ব্যাখ্যার অভিযোগ স্ত্রী গীতাঞ্জলির! হাসপাতালে কেমন আছেন সোনম
শনিবার সকালে অনশনরত অবস্থাতেই সোনম ওয়াংচুককে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে গেছে দিল্লি পুলিশ। এরপর অনশন থামবে না বলে সোনমের পথ অবলম্বন করেছেন সিজেপি প্রধান। এদিন দুপুরেই অনশনমঞ্চে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় আচমকাই এক মহিলা এগিয়ে এসে তাঁর মুখে কালি ছুড়ে মারেন। ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় যন্তরমন্তরের অনশনস্থল। দীপকের মুখ কালিতে মাখামাখি হয়ে যায় এবং উপস্থিত আন্দোলনকারীদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। উত্তেজিত জনতা কালি হামলাকারী ওই মহিলাকে লক্ষ্য করে জুতো ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গান্ধীপন্থা নিয়ে আসরে নামেন অভিজিৎ দীপকে। শান্ত ভাবে তিনি জানান,নীল রং তাঁর ভীষণ প্রিয়। একইসঙ্গে 'জয় ভীম স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। পুলিশকর্মীরা দ্রুত ওই মহিলাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: সোনমের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত মমতা, বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির আর্জি
নিট দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন থেকে সিজেপির হাত ধরে যন্তরমন্তরে এই আন্দোলনের শুরু হয়েছিল। পরবর্তীকালে লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক এতে যোগ দেন। সোনমকে পুলিশ সরানোর পর একদিকে যেমন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে হামলার মুখেও অনশন জারি রেখেছেন, অন্যদিকে সোমবার দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসএফআই-এর শীর্ষ নেতৃত্বের এই অনশন কর্মসূচির জেরে দিল্লির যন্তরমন্তরের প্রতিবাদী মঞ্চ এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
















