মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ-অনশন ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। সিজেপির মঞ্চে সোনম ওয়াংচুকের অনশনকে সমর্থন করে কয়েকদিন আগে তাঁকে ফোনও করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এবার তাঁকে কার্যত জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তিনি। পুলিশ সূত্রের দাবি, দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই শনিবার সকালে তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এভাবে সোনমকে অনশনস্থল থেকে সরানোর ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন মমতা। এই সরকারকে 'বিশ্বাস করা যায় না' কটাক্ষ করে সোনমকে অবিলম্বে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি তুলেছেন তিনি।

সোনমকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা লেখেন, "সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা এবং সুস্থতা নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। উনি তো শুধু সরকারের সঙ্গে আলোচনা চেয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে অনশন করেও সরকারের নীরবতা ছাড়া কিছুই পাননি। ঠিক যেভাবে দেশের হাজার হাজার ছাত্র-যুবর প্রশ্নে সরকার চুপ করে আছে, সেভাবেই। গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। এভাবে চুপ থাকা যায় না।"

আরও পড়ুন: কর্কটরোগ কেড়ে নিল টোটা রায়চৌধুরীর বাবাকে

মমতার আশঙ্কা, সরকারি হাসপাতালে এই পরিবেশকর্মীর সঠিকভাবে চিকিৎসা হবে না। প্রয়োজনে সোনমকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হোক এবং দরকারে সেই চিকিৎসার খরচ দেশের আমজনতা বহন করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কেন্দ্রের কড়া সমালোচনা করে মমতা বলেন, "জনগণের আস্থা অর্জন করা যায় শুধু দায়িত্ববোধ এবং গণতন্ত্রকে সম্মান করে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে এভাবে দমন করে নয়। যে সরকার বিরুদ্ধ স্বরকে গণতন্ত্রের অংশ হিসেবে না দেখে হুমকি হিসেবে দেখে, সেই সরকারকে অন্তত বিশ্বাস করা যায় না।"