টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরীর পরিবারে গভীর শোকের ছায়া। প্রয়াত অভিনেতার বাবা বিপ্লবাঙ্কুর রায়চৌধুরী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। আকস্মিক এই পিতৃবিয়োগের ধাক্কায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন পর্দা 'ফেলুদা'। ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। 

আরও পড়ুন: ঘরে ফিরলেন দময়ন্তী, নিখোঁজ থাকা রাইফেল শুটারের চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের হাতে

পারিবারিক সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই পিঠ ও শরীরের নানা অংশে তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছিলেন অভিনেতার বাবা। প্রথমে বার্ধক্যজনিত ব্যথা মনে করে বিষয়টি কেউ বুঝতে পারেনি। কিন্তু ধীরে ধীরে পিঠের যন্ত্রণা এতটাই বাড়ে যে তাঁর শিরদাঁড়া বেঁকে যেতে শুরু করে। শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকলে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায় তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। চতুর্থ পর্যায়। অভিনেতার স্ত্রী শর্মিলি রায়চৌধুরী জানান, রোগটি সম্পর্কে বাড়ির কেউ যেমন জানতে পারেননি, তেমনই টের পাননি স্বয়ং বিপ্লবাঙ্কুর রায়চৌধুরীও। শেষমুহূর্তে মাত্র তিনদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

অভিনেতার স্ত্রী জানান, গত সপ্তাহেই ছিল অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরীর জন্মদিন। জীবনের এই বিশেষ দিনে হাসপাতালে বাবার আশীর্বাদ নিতে পৌঁছেছিলেন অভিনেতা। সেই সময় তাঁর বাবার মুখ মাস্কে ঢাকা এবং নাকে-মুখে নল গোঁজা থাকায় কথা বলার ক্ষমতা ছিল না। নির্বাক অবস্থাতেই ছেলের মাথায় ও গায়ে হাত বুলিয়ে শেষ আশীর্বাদটুকু দিয়েছিলেন তিনি। আর তার ঠিক পরের দিনই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

যাঁরা টোটাকে চেনেন, তাঁরা জানেন যে নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে বরাবরই প্রচারের আলোর বাইরে রাখতে পছন্দ করেন অভিনেতা। সেই কারণেই ইন্ডাস্ট্রির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাড়া এই দুঃখজনক খবরটি বাকিদের অজানা ছিল। বাবার মৃত্যুর পর থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিয়েছেন অভিনেতা, কারও সঙ্গেই সেভাবে কথা বলছেন না। আগামী ২২ জুলাই বিপ্লবাঙ্কুর রায়চৌধুরীর পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন হবে।