নিউটাউনের চণ্ডীবেড়িয়ার এক ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে এক তরুণীর (২৫) ঝুলন্ত দেহ। মৃতের নাম তৃষা সাহা। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরের বাসিন্দা তৃষা পেশায় একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ছিলেন। একই ফ্ল্যাট থেকে হাতের শিরা কেটে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী সৌভিক রায়কে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সৌভিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুন: CJP-র অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার সংসদ থেকে যন্তরমন্তর, অভিজিৎ-কে তুলে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ
রবিবার গভীর রাতে খবর পেয়ে নিউটাউন থানার পুলিশ চণ্ডীবেড়িয়ার ওই আবাসনে পৌঁছায়। সেখানে একটি ঘর থেকে তৃষার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি, রক্তাপ্লুত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নৈহাটির বাসিন্দা সৌভিককে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে প্রথমে তরুণীকে খুন করে পরবর্তীতে আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারেন সৌভিক। তবে ঘটনার আসল কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
মৃতার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, "তৃষাকে মারধর করার পর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না এবং তার পর সৌভিক আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই যুবকের হাতের শিরা কাটা ছিল। জখম অবস্থায় তিনি প্রেমিকার ঝুলন্ত দেহ জড়িয়ে ধরেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার ফলে মৃতার পায়েও রক্তের দাগ মেলে। এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে না, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় চার মাস আগে চণ্ডীবেড়িয়ার ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন তৃষা ও সৌভিক। কিন্তু তাঁদের মধ্যে আগে কখনো কোনও অশান্তি বা ঝগড়া লক্ষ্য করেননি প্রতিবেশীরা। তৃষার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক সময় ও কারণ স্পষ্ট হবে। আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সৌভিকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে নিউটাউন থানার পুলিশ।
















