ওগো বধূ সুন্দরী ছবির গানটা মনে আছে? এই তো জীবন... যাক না যেদিকে যেতে চায় প্রাণ... বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থা অনেকটা সেইরকম। ক্ষমতার নরম তুলতুলে বালিশে শুয়ে অভ্যস্ত মানুষজনের কী আর কষ্টের জীবন, লড়াইয়ের জীবন, জেল জীবন, এজেন্সির ডাকাডাকি সয়! সইবে না। তাই সেফ জোনে থাকার এখন হিড়িক পড়ে গিয়েছে। আজ এ তো কাল ও। ট্রাপিজের খেলা, না না প্রতিযোগিতা!
আরও পড়ুন: কোন পথে যে চলি.... কোয়েল কোন পথ বেছে নিচ্ছেন?
কী দরকার? নাম লেখালেই যখন উৎপাতের সমস্যা নেই, তখন সেই পথেই যাও বাছা। সেই পথে কি এবার আরও দুজন? নীতিহীন এই বালিস তৃণমূল গজিয়েই উঠেছে বিজেপির সৌজন্যে। তাদের টোপ গিলেছে প্রথমে বারাসতের সাংসদ। আর অন্যদিকে প্রথমবার বিধানসভায় যাওয়া দুই বিধায়ক। একজন দুই দল থেকে বহিষ্কৃত, অন্যজন বাবার সৌজন্যে রাজনীতিতে। তারপর ছুরি-রাজনীতিতে জেট গতিতে হাত পাকানো।
এই দলে কি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও নাম লেখাচ্ছেন? ব্রাত্য কালীঘাটে আসেননি প্রায় দেড় মাস। নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। এলাকায় নেই, কালীঘাটে নেই, বিবৃতিতে নেই, লড়াইয়ে নেই, ২১জুলাইয়ে নেই, খবরে নেই, নাটক-সিনেমায় নেই। এই লক্ষ্মণটাই শিবির বদলের প্রাক-চিত্র। গুমোট, মেঘ, তারপর বর্ষণ। সেটাই আপাতত দস্তুর। দু' বছর জেলে থাকার পরেও ( পড়ুন হাসপাতালে) স্ত্রী-ছেলেকে ইডি সমন দিতেই গুটিয়ে গেলেন মদন মিত্র। ফলে মদন ছেলে-বউকে বাঁচাতে ৪০ বছরের সম্পর্ক এক লহমায় ছাড়তে পারলে ব্রাত্য নয় কেন? অরূপ বিশ্বাস মেসি কাণ্ডে প্রায় জেলে যেতে বসেছিলেন। ডিমও মাথায় ভাঙত। কিন্তু উপঢৌকন আর সত্ত্বা বিক্রি করতেই মামলা গলে জল। শুধু মাঝে মাঝে মুখ্যমন্ত্রী-ভজনা করতে হচ্ছে। একটু ঠাণ্ডা হলে স্বরূপও টালিগঞ্জের বাড়িতে বসে ভাত খাবেন। ব্রাত্য সেটাও শিখে নেবেন দ্রুত। কারণ, বালিস ঋতকে বাড়িতে ডেকে তিনি ইতিমধ্যে খাইয়ে ফেলেছেন। ইনভেস্টমেন্ট বৃথা যাবে না। রাজারহাটের তাপস চট্টোপাধ্যায়, ৩৪ বছর ধরে ক্ষমতাসীন বামেদের সঙ্গে ছিলেন। পাশা উল্টোতেই ১৫ বছর ধরে ক্ষমতাসীন তৃণমূলে। অর্থাৎ ৪৯ বছর ধরে ক্ষমতাসীন দলের হয়ে রাজনীতি। সময় বদলাতে একটু হিরো হিরো মনোভাব দেখাতে গিয়েছিলেন। পুলিশের ঝাপড় খাওয়ার পর আর রাস্তায় নেই। সোজা বাড়িতে। এবার বাড়ি বদলের সময়। কারণ, শেষ বয়সটা নিরুপদ্রবেই কাটুক।
আরও অনেক চ্যাটার্জি, ব্যানার্জি, রায়, দাস, বোসেরা অপেক্ষায় আছেন। শুধু একটু সঙ্কেতের অপেক্ষা। ঝাঁপিয়ে পড়বেন।
সাধারণ মানুষের শুধু একটাই প্রশ্ন, এদের বাড়িতে একটাও আয়না নেই!!!
















