দুটি কিডনি নষ্ট! নন্দীগ্রামের সেবাশ্রয়-এর আশ্রয়ে শুভাশিস, খরচ ৩০ লক্ষ টাকা

মণীশ কীর্তনিয়া
নন্দীগ্রাম
Sponsored

বয়সের তুলনায় বুড়োটে দেখায় চেহারাটা। নন্দীগ্রাম ২ সেবাশ্রয় ক্যাম্পে রবিবার ভরদুপুরে মাটিতে বসে আছেন শুভাশিস শাসমল। পাশে স্ত্রী পুতুল শাসমল। বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না এখন আর। কেন জানেন? পটাশপুরের শুভাশিসের দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা। স্ত্রী আর দুই ছেলেমেয়ে। দু’জনেই ছোট। অন্যের জমিতে জন খেটে সংসার চালাতেন। কিন্তু এখন সেটা সম্ভব নয়। কিন্তু উপায় কী! তাঁকে যে বাঁচতেই হবে। বাইরের হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়েছেন। অন্তত একটি কিডনি বদলাতে খরচ বলা হয়েছে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। ‘দিন আনি দিন খাই’এর সংসারে এই টাকা এ-জন্মে জোগাড় করা সম্ভব নয়। বাঁচার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। স্ত্রী পুতুল একটি কিডনি স্বামীকে দিতে তৈরি। ম্যাচ করলে দিয়ে দেবেন। দু’জনে একটা করে কিডনি নিয়ে বেঁচে থাকবেন বাকি জীবন। কিন্তু বদলাব বললেই তো আর হল না! টাকা কোথায়! আশা জাগিয়েছে নন্দীগ্রামের সেবাশ্রয় ক্যাম্প। স্ত্রীকে নিয়ে ছুটে এসেছেন। যদি সুরাহা হয়! রবিবাসরীয় ক্যাম্পে বিশাল ভিড়। লম্বা লাইন সর্বত্র। অগত্যা মাটিতেই বসে পড়েছেন দুর্বল শরীর নিয়ে।
কিন্তু বেশিক্ষণ বসেও থাকতে পারছেন না। স্ত্রী ক্যাম্পের কাউকে চেনেন না। এই প্রতিবেদককে সামনে পেয়ে পুতুল শাসমল অনুরোধ করলেন, একটু দেখবেন যদি ডাক্তারবাবুকে বলে আগে দেখানো যায়! উনি তো আর বসে থাকতে পারছেন না! ক্যাম্পে সবসময় তদারকিতে ব্যস্ত তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিত রায় ও কলকাতা থেকে এখানে দায়িত্ব পাওয়া কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে বলা গেল পুতুলের অনুরোধ। সঙ্গে সঙ্গে শুভাশিসকে সস্ত্রীক ডাক্তারবাবুর কাছে নিয়ে যাওয়া হল। যেহেতু তাঁর বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ তাই আরও দু’-একবার আসতে হবে। এটি রেফারেল কেস। সবটাই হবে বাইরের হাসপতালে। তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে, চিন্তার কোনও কারণ নেই। নিশ্চিন্তে বাড়ি যান। সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
যথা জায়গায় খবর চলে গিয়েছে। নিমেষে স্বামী-স্ত্রীর মুখের চেহারা বদলে গিয়েছে। যে আতঙ্কের ছাপ নিয়ে ক্যাম্পের মাটিতে বসে ছিলেন এই অসহায় দম্পতি, ফেরার সময় একবুক ভরসা ও আশ্বাস নিয়ে ফিরলেন, এবার স্বামীর চিকিৎসা হবে। আর চিন্তা নেই। শুভাশিস বাঁচবেন। সংসারটাও বেঁচে যাবে। শুভাশিসের মতো হাজারো মানুষ রোজ সেবাশ্রয় শিবিরে আসছেন, ডাক্তার দেখাচ্ছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে, ওষুধ নিচ্ছেন। হাসি ফুটছে নন্দীগ্রাম-সহ আশপাশ অঞ্চলের মানুষের। কারণ তাঁদের দুয়ারে যে অত্যাধুনিক চিকিৎসা শিবির হতে পারে আর সেখানে এরকম দুরন্ত পরিষেবা পাওয়া যেতে পারে আগে ভাবাই যেত না। এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রাম ১ ও ২’এ যে শিবির হচ্ছে সেখানে পড়ে আছেন সুশান্ত ঘোষ-ঋজু দত্তরা। প্রতিদিন দু’হাজারের বেশি মানুষ আসছেন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলছে। মানুষের লাইন বাইরে চলে গিয়েছে। হাসিমুখে সবটা সামলাচ্ছেন সকলে মিলে। কারও বাচ্চার ঘাড়ের সমস্যা, কারও চোখের সমস্যা, দাঁতের সমস্যা। সবকিছুর সুরাহা হচ্ছে। রেফারেল কেস আলাদা। সেগুলো যত্ন করে তালিকা তৈরি করে বাইরের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচার-সহ বাকি চিকিত্সা করানো হচ্ছে। দায়িত্ব নিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আপ্লুত নন্দীগ্রাম। রাতের ঘুম উড়েছে বিজেপির।
আরও পড়ুন- Padma Awards: পদ্মশ্রী সম্মান দুই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে, পদ্মভূষণ অমৃতরাজ
_
_
_
_
_
_
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Related Articles

আজ বিধানসভায় স্বরাষ্ট্রদফতরের বাজেট আলোচনা, গুন্ডা দমন আইন নিয়ে বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী
Just now

স্ত্রী-পুত্রের পর এবার মদনকে তলব ইডির
Just now

তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিসকে তলব ইডির
1h ago

'তোমাকে ছাড়া চিনি না’: নেত্রীকে কৃতজ্ঞতা! তর্পণের প্রকৃত মঞ্চেই অবস্থান শহিদ পরিবারের
4h ago

ফেসবুক লাইভে 'অবমাননাকর' মন্তব্য! মদন মিত্রকে ১০ কোটির নোটিশ অভিষেকের
11h ago

চলতি অর্থবর্ষেই সপ্তম বেতন কমিশন! বকেয়া ডিএ নিয়েও বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
13h ago





