বাজেটে ব্রাত্য কৃষক ও যুবসমাজ! মধ্যবিত্তের প্রাপ্তি শূন্য, তোপ অমিত মিত্রর

কেন্দ্রীয় বাজেট কৃষকবিরোধী-যুবসমাজেরবিরোধী এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণীরবিরোধী। এতে মধ্যবিত্তদের জন্য কিছুই নেই। এই বাজেটটি আসলে কাদের জন্য তৈরি হয়েছে? রবিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণের বাজেট পেশের পর প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী এবং অর্থ দফতরের মুখ্য উপদেষ্টা অমিত মিত্র। নবান্ন থেকে তিনি বলেন,"প্রথমত, আমি জনগণের স্বার্থে এই কেন্দ্রীয় বাজেট সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করতে চাই। বেশ কিছু খাতে বরাদ্দ ছাঁটাই করা হয়েছে, এবং আমি উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরব।"
Sponsored

অমিত মিত্র বলেন,"কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষা নিয়ে কী করেছে? ২০১৫-১৬ সালে মোট ব্যয়ের ৩.৮% শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যয় করা হয়েছিল। এই বাজেটে তা কমিয়ে ২.৬০% করা হয়েছে। বেশি ব্যয় করার পরিবর্তে, শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যয় কমে গিয়েছে। কেন্দ্র শিক্ষার ব্যাপারে উদাসীন। তা না হলে, তারা শিক্ষায় বাজেট কাটছাঁট করবে কেন? বিশ্বের অন্য সব দেশ শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের বরাদ্দ বাড়াচ্ছে। বেশিরভাগ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যয় ৫-৬% হওয়া উচিত।"
রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর আরও সংযোজন,"চাষের সারে ভর্তুকি হ্রাস থেকে বোঝা যায় যে কেন্দ্রীয় সরকার কৃষক ও গ্রামবাসীদের বিষয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নয়। ২০১৫-১৬ সালে মোট ব্যয়ের ৪.০৪% ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ ছিল; বাজেট অনুমান (BE) অনুযায়ী আজ তা কমে মাত্র ৩.১৯%-এ দাঁড়িয়েছে। আবারও, ভর্তুকি বাড়ানোর পরিবর্তে তা আরও কমে গিয়েছে।"
সমাজে পিছিয়ে পড়াদের নিয়ে অমিত মিত্র জানান, "২০১৫-১৬ সালে সমাজের চারটি পিছিয়ে পড়া শ্রেণী—তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি এবং সংখ্যালঘুদের কল্যাণের জন্য বাজেটের ০.২১ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছিল। এটি কমে এখন বাজেটের ০.১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫-২৬ সালের সংশোধিত হিসাব দেখা যায়, তাহলে বরাদ্দ আরও কম। কেন্দ্রীয় সরকার সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেনী, তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি এবং সংখ্যালঘুদের বিষয়ে পরোয়া করে না, আর একারণেই বরাদ্দ ছাঁটাই করা হয়েছে।"
অমিত মিত্রর আরও বক্তব্য,"কেন্দ্রীয় সরকার যে পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে, "আমরা তা বিশ্বাস করি না। ২০২৪-২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-র জন্য বাজেটে বলা হয়েছিল যে বরাদ্দ ছিল ৩০,১৭০ কোটি টাকা। সংশোধিত হিসাবে তা কমে ১৩,৬৭০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। যখন প্রকৃত হিসাব প্রকাশ করা হল, তখন দেখা গেল তা মাত্র ৫,৮১৫ কোটি টাকা। জনগণের সামনে উপস্থাপিত প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমান থেকে প্রকৃত ৫,৮১৫ কোটি টাকায় নেমে আসাটা একেবারেই অবিশ্বাস্য। আসল টাকার অঙ্কটি উপস্থাপিত পরিমাণের প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ মাত্র।"
স্বচ্ছ ভারত মিশন-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি অমিত মিত্রর। ডানকুনি–সুরাট শিল্প করিডর নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ২০০৯ সাল থেকেই ডানকুনি–দিল্লি ফ্রেট করিডরের কথা বলা হলেও তা বিহার পর্যন্ত এসে থমকে রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। “এই বিষয়ে কেন্দ্র নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করুক,” বলেন তিনি।
আরও পড়ুন - সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ ‘অন্ধ বাজেট’: তীব্র কটাক্ষ কংগ্রেসের, তোপ বিরোধীদেরও
_
_
_
_
_
_
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Related Articles

আজ বিধানসভায় স্বরাষ্ট্রদফতরের বাজেট আলোচনা, গুন্ডা দমন আইন নিয়ে বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী
2h ago

স্ত্রী-পুত্রের পর এবার মদনকে তলব ইডির
2h ago

তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিসকে তলব ইডির
2h ago

'তোমাকে ছাড়া চিনি না’: নেত্রীকে কৃতজ্ঞতা! তর্পণের প্রকৃত মঞ্চেই অবস্থান শহিদ পরিবারের
6h ago

ফেসবুক লাইভে 'অবমাননাকর' মন্তব্য! মদন মিত্রকে ১০ কোটির নোটিশ অভিষেকের
13h ago

চলতি অর্থবর্ষেই সপ্তম বেতন কমিশন! বকেয়া ডিএ নিয়েও বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
14h ago





