বিধায়িকার সঙ্গে মিটেছে ভুল বোঝাবুঝি। হৈ হৈ করে দুর্গাপুজো (Durga Pujo) করছে '২০'র পল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি'। ২৯ জুলাই খুঁটিপুজো হয়ে যাওয়ার পরেও ১৫ অগাস্ট ব্যানার টাঙিয়ে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে কমিটি জানিয়ে দেয়, 'পারিপার্শ্বিক চাপের ফলে' এ বছর আর পুজো করতে চায় না তারা। এর পরে আবার বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না বলে, শুধু স্যোশাল মিডিয়া পোস্টই মোছে না, পেজটাও ডিলিট করে দেয়। তবে, মা আসছেন স্বমহিমাতেই। স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতি মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর (Purnima Chakraborty) সঙ্গে মনোমালিন্য মিটেছে। ফের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে '২০'র পল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি' জানিয়েছে তারা পুজো করছে।

স্বাধীনতা দিবসের সকালেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। পোস্টটি '২০'র পল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি'-র পেজে করা হয়। তাড়াতাড়ি রীতিমতো পোস্টার দিয়ে লেখা রয়েছে, "স্বাধীন ভারতে আজ আমরা পরাধীন। ৬৩ বছর ধরে চলা দুর্গাপুজো এই মুহূর্তে কিছু ব্যক্তি এবং বর্তমান পারিপার্শ্বিক চাপের কারণে নানান হুমকি নানান শারীরিকভাবে নির্যাতনের হুমকি এর বিরুদ্ধে আমাদের এই প্রতিবাদ পুজো না করার সিদ্ধান্ত"। বিষয়টি নিয়ে 'বিশ্ববাংলা সংবাদ'-এর পক্ষ থেকে পুজো কমিটির (Pujo Committee) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৯ জুলাই খুঁটিপুজোর আগে তারা স্থানীয় বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তী সঙ্গে দেখা করেছিল। পুজো করার সম্মতি জানিয়ে বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী শর্ত দিয়েছিলেন, তাঁর মনোনীত দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিকে পুজো কমিটিতে রাখতে হবে। সেই শর্ত মেনে নেয় পুজো কমিটি। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় খুঁটিপুজোর দিন থেকেই। অভিযোগ, সেদিন বাইক বাহিনী এসে রীতিমতো অশ্রাব্য ভাষায় কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়ে যান। অভিযোগ, সোমনাথ সেন, বাপি গোস্বামী-সহ বিজেপির স্থানীয় মণ্ডলের দায়িত্বে থাকা নেতারা ফতোয়া দেন, পুজো কমিটিতে তৃণমূলের যেসব সক্রিয় নেতা-কর্মী রয়েছেন তাঁদের কমিটি থেকে বের করে দিতে হবে, না হলে এই পুজো তাঁরা করতে দেবেন না। এরপরেই রাজনৈতিক দলদলি না করে পুজো না করার সিদ্ধান্ত জানায় কমিটি। তারপরেই কোনও এক অজ্ঞাত কারণে শুধু সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) থেকে পুজো না করার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া পোস্ট সরানোই নয়, একেবারে ফেসবুক পেজটিই উড়িয়ে (Facebook Page Delete) দেন '২০'র পল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি'-র কর্মকর্তারা। ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি, 'পুজো বন্ধ'- বিষয়টা সেইরকম নয়। তাদের কথায়, "পুজো বন্ধ হোক আমরা সেটা চাই না। শুধু আমরা যারা উদ্যোগ নিয়ে খুঁটিপুজো করেছিলাম, তারা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারণে আর এই পুজোর সঙ্গে জড়িত থাকতে চাইছি না। অন্য যে কেউ দায়িত্ব নিয়ে এই পুজো করতে পারে।" 

এর কিছুদিন পরেই ইউ টার্ন। ফের পুজো করতে নেমে পড়েছে পুরনো কমিটিই। তাদের তরফ থেকে জানান হয়, স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে তাদের সব ভুল বোঝাবুঝি, মন কষাকষি মিটে গিয়েছে। পূর্ণিমা চক্রবর্তী নিজেও চান, শাস্তিতে পুজো হোক। সেই কারণে ফের পুজোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে রীতিমতো বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে '২০'র পল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি'।