যাত্রী পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত সফল কর্মীকে সামাজিক সুরক্ষা যোজনায় অন্তর্ভুক্তিকরণ থেকে শুরু করে কলকাতার রাস্তায় সঠিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করার দাবি, হাওড়া, শিয়ালদহ কিংবা কলকাতা স্টেশনে উপযুক্ত পার্কিং ব্যবস্থা চালু ও সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করা-সহ ৮ দফা দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার পরিবহন দফতর অভিযানের ডাক দিল বামপন্থী তিন শ্রমিক সংগঠন এআইটিইউসি (AITUC), এআইইউটিইউসি (AIUTUC) এবং এআইসিসিটিইউ (AICCTU)। জানা গিয়েছে, পরিবহন ব্যবস্থার চরম সংকট ও শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ১২ ঘণ্টা পরিষেবা স্থগিত রেখে এই কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। আজ দুপুর ১টা নাগাদ সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে জমায়েতের পর সেখান থেকে মিছিল করে পরিবহন ভবনের উদ্দেশে যাওয়া হবে। 

মূলত যে ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে সেগুলি হল -

১) শহর কলকাতার রাস্তায় সুস্থ সিগনালিং সিস্টেম চালু করতে হবে।

২) হাওড়া-শিয়ালদহের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন গুলিতে যাতে প্যাসেঞ্জার তুলতে কোনও সমস্যা না হয় সেই কারণে সুনির্দিষ্ট পার্কিং চালু করা আবশ্যক।

৩) যাত্রী সাথী অ্যাপকে পরিবহন দফতরের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। 

৪) শহরে রাস্তায় যাত্রী পরিবহনে অবাঞ্চিত গাড়িদের প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।

৫) নোটিশ ছাড়াই গাড়ির পিছন থেকে ছবি তুলে ইচ্ছেমতো ট্রাফিক পুলিশের কেস দেওয়া চলবে না।

৬) ওলা, উবের, র‍্যাপিডোর মতো অ্যাপ ক্যাপ সংস্থাদের সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। 

৭) বাইক এবং ট্যাক্সির বাণিজ্যিকীকরণ প্রক্রিয়া সরলীকরণ এবং লোনের গাড়ি ও তার রেজিস্ট্রেশন নম্বরে ঠিক রেখে তার কনভার্ট করার ব্যবস্থা করতে হবে।

৮) যাত্রী পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত কর্মীকে সামাজিক সুরক্ষা যোজনা আওতায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলি জানিয়েছেন ১২ ঘণ্টার জন্য নিজেদের কাজ স্থগিত রাখা মানে তাঁদের কাছে এটা বড় ক্ষতি। কিন্তু পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে এখনই যদি সরকার এই দাবিগুলি না মানে তাহলে সে ক্ষেত্রে আগামী দিনে তাদের জীবিকা নির্বাহে আরও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তখন বৃহত্তর আন্দোলনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।