শহরে বেআইনি জবরদখল উচ্ছেদ, নির্মাণ সিল করা বা ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া অশান্তি ও আইনশৃঙ্খলাজনিত অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কড়া পদক্ষেপ করল লালবাজার। এই ধরনের প্রশাসনিক অভিযানের সময় পুরসভার সঙ্গে পুলিশের পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বুধবার বিশেষ সতর্কতামূলক নির্দেশিকা জারি করলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। একই সঙ্গে গোটা প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রাথমিক ভাবে ছ’দফা নিয়ম এবং একটি বিস্তারিত ‘করণীয় তালিকা’ বা চেকলিস্ট নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
লালবাজার সূত্রের খবর, অনেক সময়েই এলাকায় উচ্ছেদ বা অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হলে স্থানীয়দের ক্ষোভ ও জমায়েতের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই জটিলতা এড়াতেই আগাম তথ্য আদানপ্রদান ও দ্রুত পদক্ষেপের উপর জোর দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অভিযানের দিনক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা সংশ্লিষ্ট থানাকে আগেই জানাতে হবে। পুরসভা ও পুলিশ যৌথ ভাবে এলাকায় পৌঁছনোর পর অযথা সময় নষ্ট না করে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে, যাতে মানুষ জমায়েত হয়ে অশান্তি সৃষ্টির সুযোগ না পায়। এ ছাড়া স্পর্শকাতর বা বিতর্কিত এলাকায় অভিযানের আগে দুই বিভাগের আধিকারিকদের যৌথ বৈঠক করে আগাম মূল্যায়ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিল করার ক্ষেত্রেও যাবতীয় আইনি নথিপত্র আগেভাগে প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে।
আইনগত দিকটি নিশ্চিত করতে চেকলিস্টে বলা হয়েছে, যে কোনও পদক্ষেপের আগে নিয়ম মেনে দখলদার বা বাসিন্দাদের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে অগ্রিম নোটিস পৌঁছে দেওয়া জরুরি। অভিযানের আগে পুরসভা ও স্থানীয় থানা যৌথ ভাবে এলাকা পরিদর্শন করে সম্ভাব্য উত্তেজনার উৎসগুলি চিহ্নিত করবে। উচ্ছেদ বা ভাঙার দিন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসির নেতৃত্বে পর্যাপ্ত বাহিনী প্রস্তুত থাকবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী মোতায়েন থাকবে কুইক রেসপন্স টিম এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক মহিলা পুলিশকর্মী। লালবাজারের কর্তাদের মতে, এই সমন্বিত রূপরেখা মানা হলে আইনশৃঙ্খলার ঝুঁকি এড়িয়ে মসৃণ ভাবে প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
















