ভারতের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্যের স্বার্থে শীঘ্রই চালু করা হবে। এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি তখনই চালু হবে যখন মার্কিন মুলুক থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় শিল্প মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyel) জানিয়েছেন " BTA তখনই চূড়ান্ত সাক্ষরিত হবে ভারতে পক্ষ থেকে যখন ভারতের অন্যান্য পারিপার্শ্বিক প্রতিযোগী রাষ্ট্রের থেকে ওয়াশিংটন সেই শুল্ক দিতে রাজি হবে"।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা BTA-র আলোচনা শুরু হয়। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি -এর কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়।দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কথোপকথনের পর ওয়াশিংটন ভারতের উপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারে সম্মত হয়। জুলাই মাসে একজন বর্ষীয়ান মার্কিন কর্মকর্তা জানান যে এই চুক্তি ইতিমধ্যেই খসড়া তৈরি হয়ে গিয়ে সাক্ষরের পথে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এই চুক্তি সাক্ষরিত হবে। যদিও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে ৩০১ ধারা এই চুক্তির অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ভারত এমন চুক্তি চাইছে যেখানে রফতানিকারক রাষ্ট্র গুলির সাথে শুল্ক শর্ত এমন হওয়া উচিত যেখানে মুক্ত বাণিজ্যের পরিবেশ বজায় থাকবে। তিনি আরও জানান এই চুক্তি অলিখিত ভাবে থাকলেও পরবর্তী ক্ষেত্রে দিল্লি-ওয়াশিংটনের মধ্যে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক মতপার্থক্যই যে বর্তমান বিলম্বের একমাত্র কারণ, তা নয়। বরং পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে এই বিলম্ব হচ্ছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্বও অস্বীকার করা যাচ্ছে না। ২০২৫ সালে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪৯.৪২ বিলিয়ন ডলার এবং পরিষেবা বাণিজ্য প্রায় ৯২.২৩ বিলিয়ন ডলার। এক্ষেত্রে যদিও বার্তা স্পষ্ট ভারতের তরফে চুক্তি করতে আপত্তি নেই ভারতের। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মুক্ত বাজারে ক্ষেত্রে এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ।
















