২০১৯ সালের সেই টানটান মুহূর্ত এখনও দেশবাসীর স্মৃতিতে টাটকা। পাকিস্তানি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে আকাশেই ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে পাক সেনার হাতে বন্দি হওয়া, আর তার পর প্রবল মানসিক চাপের মুখেও বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে সসম্মানে দেশে ফেরা— রাতারাতি জাতীয় বীরের সম্মান পেয়েছিলেন বায়ুসেনার তৎকালীন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। সাহসিকতার জন্য ‘বীর চক্র’ প্রাপক সেই ফাইটার পাইলট এ বার সামরিক উর্দি খুলে বাণিজ্যিক বিমান ওড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। দীর্ঘ ২২ বছরের গৌরবোজ্জ্বল কর্মজীবনের ইতি টেনে ভারতীয় বায়ুসেনা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন অভিনন্দন বর্তমান। যোগ দিয়েছেন একটি বেসরকারি আঞ্চলিক বিমান সংস্থায়।

প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩১ মার্চ বায়ুসেনা থেকে অব্যাহতি নেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন অভিনন্দন। এর পর অগস্টে গোয়াভিত্তিক আঞ্চলিক বিমান সংস্থা ‘ফ্লাই৯১’-এ পাইলট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হওয়ায় এ নিয়ে নিজে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।

ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (এনডিএ) থেকে স্নাতক হওয়ার পর ২০০৪ সালের ১৯ জুন ফাইটার পাইলট হিসেবে বায়ুসেনায় কমিশন পান তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে সুখোই-৩০ এমকেআই এবং মিগ-২১ বাইসনের মতো যুদ্ধবিমান দক্ষতার সঙ্গে উড়িয়েছেন। পদোন্নতি পেয়ে ২০২১ সালে গ্রুপ ক্যাপ্টেন হন। তাঁর স্ত্রী তানভি মারওয়াহাও বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার। ২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী পাক এফ-১৬ বিমান ধ্বংস করে সাহসিকতার নজির গড়েন তিনি। পাল্টা হামলায় তাঁর বিমান ভেঙে পড়লে শত্রুসীমানায় বন্দি হন। কিন্তু পাক সেনার চরম জেরার মুখেও কোনও সামরিক তথ্য ফাঁস করেননি। প্রায় ৬০ ঘণ্টার নাটকীয় টানাপড়েনের পর সসম্মানে দেশে ফেরেন এবং পরবর্তীতে ‘বীর চক্র’ সম্মানে ভূষিত হন। আকাশসীমা সুরক্ষার গুরুদায়িত্ব সফলভাবে সামলানোর পর এ বার সাধারণ যাত্রীদের নিয়েই আকাশে ডানা মেলবেন অভিনন্দন।