২০ সাংসদকে দেওয়া নোটিশের জবাবের জন্য সময় বাড়াল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Lok Sabha Speaker Om Birla)। দলত্যাগের অভিযোগে তাঁদের বক্তব্য জানতে চেয়ে আগে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করেন সাংসদেরা। তাঁদের আর্জি মেনে স্পিকার ওম বিড়লা আরও তিন সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। ফলে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জবাব দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Bandyopadhyay), কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ (Kakoli Ghosh Dastidar) ২০ সাংসদ। তৃণমূলের অভিযোগ, লোকসভার নথিতে এখনও তৃণমূলের সাংসদ থাকলেও এই ২০ জন এনসিপিআইয়ের (NCPI) সঙ্গে যুক্ত হয়ে এনডিএর (NDA) বৈঠকেও অংশ নিচ্ছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁদের সাংসদপদ খারিজের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল।
তবে বিষয়টি শুধু লোকসভার নোটিশেই থেমে নেই। ওই ২০ জনের বিরুদ্ধে স্পিকারের কাছে পৃথক ভাবে সদস্যপদ বাতিলের আবেদন করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ সময়েও সেই আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। স্পিকার এবং লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।
এই মামলার শুনানি হয় ২৫ অগাস্ট প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে। বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহন। শুনানিতে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের বক্তব্যের বিষয়টিও সামনে আসে। অর্থাৎ, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে লোকসভার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি শীর্ষ আদালতের নজরও রয়েছে। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে মামলাটি ফের শুনানিতে ওঠার কথা।
এদিকে ২০ সাংসদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েই মূল প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। অভিযোগ, তাঁরা নির্বাচিত হয়েছিলেন তৃণমূলের প্রতীকে, কিন্তু পরবর্তী সময়ে এনসিপিআইয়ের সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক ভাবে যুক্ত করেছেন। এনডিএর বৈঠকে তাঁদের উপস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তাঁর বাসভবনে বৈঠকে যোগ দেওয়ার ঘটনাও তৃণমূলের আবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে, সংসদে তাঁদের পরিচয় এখনও তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই রয়েছে। ফলে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাংসদপদ দুই বিষয়কে ঘিরেই এখন লোকসভা ও আদালত, দুই জায়গাতেই নজর রয়েছে।
















