নেপালের ঘটনার পর থেকে হিমালয় ঘিরে বাড়ছে আতঙ্ক। বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং পার্বত্য অঞ্চলের আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনে 'গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড' (Glacial Lake Outburst Flood) মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করেছে সিকিম। ইতিমধ্যেই পরিবেশ বিজ্ঞানীরা ৪০টি হিমবাহ হ্রদকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছেন। A ক্যাটাগরিভুক্ত (সবচেয়ে বিপদজনক) অন্তত ১৬!

পরিবেশবিদরা বলছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে যেভাবে বরফ গলে নতুন হ্রদ তৈরি হচ্ছে এবং পুরনো গুলোর আয়তন বাড়ছে তাতে যে কোনও মুহূর্তে প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিস্তৃত এলাকা প্লাবিত হতে পারে। আর সম্প্রতি নেপালের জলরোষের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে আশঙ্কা আরও বাড়ছে। ২০২৩ সালের সিকিম বিপর্যয়ের স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে সিকিম রাজ্য প্রশাসন এখন উপগ্রহ চিত্র এবং রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির সাহায্যে এই হ্রদগুলোর পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করছে। ভবিষ্যতের হিমালয়ের পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে সিকিমের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ 'জিএলওএফ ঝুঁকি নিরসন প্রোটোকল' তৈরির কাজ করছে।  

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সব হ্রদের ঝুঁকি নিরসনে একই পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব নয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই কারণে শাকো ছো, লোনাক এবং গুরুদংমার কমপ্লেক্সের জন্য আলাদা আলাদা পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। লোনাক কমপ্লেক্সের জন্য মুগুথাংয়ের কাছে একটি ফ্লাড-রিটেনশন কাঠামো তৈরির ভাবনা চিন্তা চলছে। সাইফনিং, পাম্পিং এবং ড্রেনেজ নালা তৈরির মতো বৈজ্ঞানিক উপায়ে হ্রদগুলোর জলস্তর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিকিমসহ উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ এবং জম্মু ও কাশ্মীরের দুর্যোগ মোকাবিলা প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। সিকিম এখন উন্নত আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (Early Warning System), অতিরিক্ত সেন্সর স্থাপন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই বৈশ্বিক প্রাকৃতিক ঝুঁকি মোকাবিলার কৌশল গ্রহণ করেছে।