নির্ধারিত সময়েই প্রকাশিত হচ্ছে সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) বহুল প্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ (‘Belonging: A Journey of Love’)। ভারতের বাজারে বইটি প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছে হার্পার কলিন্স ইন্ডিয়া (HarperCollins India)। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশকের তরফে জানানো হয়েছে, ১০ নভেম্বরই ভারতে প্রকাশিত হবে বইটি। এই প্রসঙ্গে হার্পার কলিন্স ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, “সোনিয়া গান্ধীর ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ আমরা প্রকাশ করব। বহুল প্রতীক্ষিত এই স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ২০২৬ ভারতে প্রকাশিত হবে।” প্রকাশকের দাবি, বইটি ভালোবাসা, পরিচয়, কর্তব্য এবং নিজের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গভীর ব্যক্তিগত আখ্যান। একই সঙ্গে গত কয়েক দশকের ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের একটি বিরল অভ্যন্তরীণ ছবিও তুলে ধরবে এই বই।

প্রাথমিক ভাবে  প্রথমদিকে ভারতে বইটি প্রকাশ করার কথা ছিল পেঙ্গুইন র্যাতন্ডম হাউস ইন্ডিয়ার (Penguin Random House India)। কিন্তু বইয়ের পাণ্ডুলিপি নিয়ে লেখক ও প্রকাশকের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়। সূত্রের খবর, পাণ্ডুলিপির কিছু অংশে সম্পাদনার প্রস্তাব দিয়েছিল প্রকাশনা সংস্থা। সেই প্রস্তাব নিয়ে অচলাবস্থার জেরেই শেষ পর্যন্ত পেঙ্গুইন বইটি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও পেঙ্গুইন র্যাবন্ডম হাউস ইন্ডিয়া স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বাইরের কোনও চাপের কারণে তারা বইটি প্রকাশ থেকে সরে যায়নি। সংস্থার বক্তব্য, লেখকের সঙ্গে আলোচনার সময় একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। তবে লেখক ও প্রকাশকের মধ্যে হওয়া গোপনীয় আলোচনার কথা উল্লেখ করে সেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে চায়নি তারা।

সংস্থার দাবি, তারা বইটি প্রকাশ করতে আগ্রহী ছিল এবং লেখকের তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া প্রকাশনা প্রক্রিয়ারই স্বাভাবিক অংশ। পেঙ্গুইন সরে যাওয়ার পর ভারতের বাজারে বইটি প্রকাশের দায়িত্ব নেয় হার্পার কলিন্স ইন্ডিয়া। অন্য দিকে, ভারতের বাইরে বইটির প্রকাশক 'আলফ্রেড এ নফ'। মজার বিষয়, আলফ্রেড এ নফ পেঙ্গুইন র্যা ন্ডম হাউসেরই একটি প্রকাশনা সংস্থা। 

‘বিলংগিং’-এ নিজের জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরেছেন ৭৯ বছরের সোনিয়া গান্ধী। ইটালির ছোট শহরে কাটানো শৈশব থেকে কেমব্রিজে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে পরিচয়, প্রেম ও বিয়ে—জীবনের একাধিক ব্যক্তিগত অধ্যায় উঠে এসেছে বইটিতে। রয়েছে নেহরু-গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে প্রবেশের অভিজ্ঞতাও। ১৯৮৪ সালে শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড এবং ১৯৯১ সালে স্বামী রাজীব গান্ধীর হত্যার পর কী ভাবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন আমূল বদলে যায়, সেই ঘটনাও স্মৃতিকথায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সেইসঙ্গে পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের সভানেত্রী হিসেবে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সোনিয়া গান্ধী। সূত্রের খবর, ২০০৪ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকলেও সেই প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। কেন সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সেই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও বিস্তারিত বিবরণ বইটিতে রয়েছে।