বাবা দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। মেয়ে নয়ডার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। আর তাঁর করা এনএসএ (NSA) মামলা নির্দেশ খারিজ করে দিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Delhi University) ছাত্রী আকৃতি চৌধুরিকে (Akriti Choudhury) নয়ডার শ্রমিক আন্দোলন সংক্রান্ত ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে প্রায় পাঁচ মাস আটক রাখা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, আন্দোলন ঘিরে হিংসাত্মক ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন CEO জ্ঞানেশ কুমারের (Gyenesh Kumar) মেয়ে মেধা রূপম। সেটিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন আকৃতি। মামলার শুনানিতে এলাহাবাদ হাই কোর্ট সেই আটকের নির্দেশ খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে আটক রাখার প্রশাসনিক ভিত্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। একই সঙ্গে জেলা মেজিস্ট্রেট মেধা রূপমকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে ওই ক্ষতিপূরণের অর্থ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বেতন থেকে আদায়ের কথাও বলা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই আলোচনায় এসেছে গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেধা রূপমের ভূমিকা। আকৃতির আইনজীবীর দাবি, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের সুপারিশ করেছিলেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM) হিসেবে মেধা রূপম আটকের নির্দেশের অনুমোদনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও সূত্রের খবর।
কে মেধা রূপম?
মেধা রূপম ২০১৪ ব্যাচের উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইএএস আধিকারিক। বর্তমানে তিনি গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং নয়ডার প্রথম মহিলা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে কাসগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং নয়ডা কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মেধা রূপম ভারতের বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে। প্রশাসনিক পরিচয়ের পাশাপাশি জাতীয় স্তরের শুটার হিসেবেও পরিচিতি মেধা। তিনি দিল্লির সেন্ট স্টিফেনস কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক। তাঁর বাবা চাকরিসূত্রে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকায় তাঁর শিক্ষাজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে কেরলমে। তবে এই পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে আকৃতি চৌধুরির এনএসএ মামলার আইনি প্রশ্নের সরাসরি কোনও সম্পর্ক আদালতের রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মেধা রূপমের স্বামী মনীশ বনসলও উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইএএস আধিকারিক।
হাই কোর্টের রায় এবং ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত নির্দেশ নিয়ে মেধা রূপমের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হয়েছে। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকেও রায়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু সামনে আসেনি। এই রায় তাই শুধু একটি আটকাদেশ খারিজের ঘটনা নয়। প্রতিরোধমূলক আটক আইনের প্রয়োগে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কতটা যাচাই-বাছাই করে নেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বেতন থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের বিষয়টি কার্যকর হলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দায় এবং জবাবদিহি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হলেও সেই ক্ষমতার প্রয়োগে আইনি ভিত্তি এবং যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে চলার গুরুত্বও এই মামলায় সামনে এসেছে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় সেই অর্থে প্রশাসনিক মহলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা—ক্ষমতার প্রয়োগের সঙ্গে জবাবদিহিও সমানভাবে জরুরি।
















