উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই চাকরি হারানোর আশঙ্কা উবের (Uber) চালকদের। সংস্থার অন্তত ৩৩০০ কর্মী চাকরি হারাতে চলেছেন। কোম্পানির CEO খোদ ইমেইলের মাধ্যমে এই কথা জানিয়েছেন বলে খবর। সংস্কার তরফে বলা হয়েছে চালকহীন পরিষেবায় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতেই এবার কর্মী ছাটাইয়ের পথে হাঁটতে হচ্ছে। যেহেতু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে তাই উবেরের (Uber) পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতাও আরও বাড়বে।

দেশ-বিদেশের নামি টেক কোম্পানিগুলিতে যখন তখন কর্মীদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা বা ছাঁটাই করার ঘটনা নতুন নয়। সংস্থাগুলি তাদের নিজেদের লাভ-ক্ষতির হিসেব করতে গিয়ে কত মানুষের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তার হিসেব কেউ রাখেনা।সম্প্রতি মাইক্রোসফট, আমাজন ও মেটার মতো তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিও চলতি বছরে কয়েক হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। এখানে অবশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটা অবদান রয়েছে। কারণ AI নির্ভরশীলতা যত বাড়বে ততই ম্যানপাওয়ারের উপর পড়বে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা যে আশঙ্কা করেছিলেন এবার সেটাই আস্তে আস্তে সত্যি হচ্ছে সর্বত্র। Uber জানিয়েছে যে, কয়েক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে যে অর্থ সাশ্রয় হবে তা দিয়ে আগামী দিনে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর টেকনোলজিতে জোর দেওয়া সম্ভব হবে। ২০২৭ সালে রোবো ট্যাক্সির অংশীদারিত্বের জন্য উবের অন্তত দশ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি বিনিয়োগ করার ভাবনা চিন্তা করছে। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই কর্মী ছাঁটাই করার পথে হাটতে হচ্ছে কোম্পানিকে।এক বা দু’জন সদস্যবিশিষ্ট তথাকথিত ‘মাইক্রো টিম’-এর সংখ্যাও প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনা হচ্ছে।

অ্যাপ ক্যাপ সংস্থা উবেরে আচমকা কর্মী ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নতুন নয়। চলতি বছরেও গ্রাহক পরিষেবা ও মানবসম্পদ বিভাগের ক্ষেত্রে এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। CEO খোসরোশাহি জানিয়েছেন, উবের গত পাঁচ বছরে যেভাবে নিজের পরিষেবা বাড়িয়েছে তাতে সংস্থার কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে গিয়েছে। সহজ কথায় বলতে গেলে, ব্যবসা যখন ছোট ছিল তখন যে ধরনের সাংগঠনিক কাঠামো কোম্পানি বজায় রাখতে পেরেছিল তা বর্তমানে আর সম্ভব হচ্ছে না। এই ছাঁটাইয়ের ফলে উবেরের ম্যানেজারদের মোট সংখ্যা ২০ শতাংশ কমে যাবে। অর্থাৎ চালক থেকে শুরু করে ম্যানেজার সর্বস্তরেই এবার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মীরা চাকরিহারা হতে চলেছেন।