চলতি বছরের শুরু থেকেই চর্চায় ছিল অযোধ্যার রাম মন্দির (Ram Mandir in Ayodhya)। নেপথ্যে ছিল অনুদান চুরি নিয়ে বিতর্ক। সেই সব দূরে সরিয়ে অযোধ্যার রাম মন্দির পরিচালনায় বড় পদক্ষেপ নিল শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট (Shri Ram Janmabhoomi Teerth Kshetra Trust)। ৫,০০০- এরও বেশি আবেদনকারীর এক দীর্ঘ তালিকা থেকে 'রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট'-র প্রথম সিইও বা মুখ্য কার্যনির্বাহী হিসাবে বেছে নেওয়া হল এয়ার মার্শাল (অবসরপ্রাপ্ত) জিতেন্দ্র মিশ্রকে (Air Marshal (Retd.) Jitendra Mishra)। তিনি ছিলেন ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় ভারতীয় বায়ুসেনার পশ্চিমাঞ্চলীয় বায়ুসেনা কমান্ডের নেতৃত্বে। ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল বায়ুসেনা থেকে অবসর নেন জিতেন্দ্র মিশ্র। শুধু সিইও পদেই নয় আরো বেশ কিছু পদে নিয়োগ করা হয়েছে।
অযোধ্যায় রামমন্দিরের কোটি কোটি টাকা প্রণামী চুরি বিতর্কের পরেই গঠন করা হয় সার্চ কমিটি৷ এই সার্চ কমিটির তিন সদস্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলি (Retired Justice Pramod Kohli), লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিষ্ণুকান্ত চতুর্বেদী (Lieutenant General Vishnukant Chaturvedi) এবং শিল্পপতি সুরেশ হাওয়ারে দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৫,৫৮৫টি নাম থেকে বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেন৷ সিইও বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর প্রাথমিক যাচাইয়ের পাশাপাশি হাতে-কলমে মূল্যায়নও করা হয়। মোট ৬০০ নম্বরের একটি মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩,৫৭৭ জন প্রার্থী এই মূল্যায়নে অংশ নেন। ৪৭০ বা তার বেশি নম্বর পাওয়া প্রার্থীদের পরবর্তী ধাপের জন্য বেছে নেওয়া হয়। এরপর ১০৮ জন প্রার্থীর সঙ্গে ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকার হয়। শেষ পর্যন্ত ১৬ জনকে অযোধ্যায় ডেকে সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় ১১ ও ১২ অগস্ট। সিইও পদের জন্য মোট ৫,৫৮৫টি আবেদন জমা পড়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৩,৫৭০ জন আবেদনপত্র পূরণ করে ফেরত দেন। গত ৬ জুলাই সিইও নির্বাচনের জন্য তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিতে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিষ্ণুকান্ত চতুর্বেদী এবং সুরেশ হাওয়ারে।
সিইও নিয়োগের পাশাপাশি বুধবার ট্রাস্টে তিনজন নতুন সদস্যকেও নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন দিল্লির মহেশ ভাগচন্দকা, অযোধ্যার বাসিন্দা মদন মোহন পাণ্ডে এবং শিকোহাবাদের নির্মলা যাদব। মহেশ ভাগচন্দকা প্রয়াত বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা অশোক সিঙ্ঘলের আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে। ট্রাস্টের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই তিন নতুন সদস্যের নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র ভারতীয় বায়ুসেনার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ আধিকারিক। তিনি সর্বোত্তম যুদ্ধ সেবা পদক, অতি বিশিষ্ট সেবা পদক এবং বিশিষ্ট সেবা পদকে সম্মানিত। ৩৮ বছরেরও বেশি কর্মজীবনে তিনি বায়ুসেনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। একটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রনের কমান্ডিং অফিসার, বিমান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রধান পরীক্ষামূলক পাইলট, দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির এয়ার অফিসার কমান্ডিং, অপারেশনাল পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত দায়িত্ব-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তিনি। এছাড়াও বায়ুসেনা সদর দফতরে প্রকল্প সংক্রান্ত সহকারী এয়ার স্টাফ প্রধান, বিমান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের কমান্ড্যান্ট এবং প্রতিরক্ষা সমন্বিত সদর দফতরের উপপ্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পশ্চিমাঞ্চলীয় বায়ুসেনা কমান্ডের প্রধান হওয়ার আগে প্রতিরক্ষা সমন্বিত সদর দফতরের অপারেশনস বিভাগের উপপ্রধান ছিলেন জিতেন্দ্র মিশ্র। ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় তাঁর নেতৃত্বও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। অবসর নেওয়ার মাত্র কয়েক মাস পরেই এবার অযোধ্যার রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রথম সিইও হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেলেন তিনি।
















