নেপালের ভয়াবহ প্লাবনের মধ্যেই উত্তর ও পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে ফের দুর্যোগের ছবি। পাহাড় থেকে সমতল টানা বৃষ্টি, হড়পা বান, নদীর ফুলেফেঁপে ওঠা এবং ভূমিধসে একের পর এক রাজ্যে বিপর্যস্ত জনজীবন। উত্তরাখণ্ডে (Uttarakhand) নতুন করে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। অসমের গুয়াহাটিতে (Guwahati, Assam) ভূমিধস কেড়ে নিয়েছে চারটি প্রাণ। বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডেও ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। নেপালে হড়পা বানের পর নদীগুলির জলপ্রবাহ বেড়ে যাওয়াকেও বিহার ও উত্তরপ্রদেশের (Bihar and Uttar Pradesh) বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উত্তরাখণ্ডে। পাহাড়ি এলাকায় ধস ও প্রবল জলস্রোতের জেরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। রাজ্যের ১৭২টি রাস্তা এখন চলাচলের অযোগ্য। পিথোরাগড়, নৈনীতাল ও বাগেশ্বরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথও এর আওতায় রয়েছে। এরই মধ্যে আলমোড়ায় বাড়ির অংশ ভেঙে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল জলের তোড়ে একটি গাড়ি ভেসে যাওয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুজন। গোলা নদীতে জল ছাড়ার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে, ফলে হলদোয়ানি থেকে উধম সিং নগর পর্যন্ত সংলগ্ন এলাকার বহু মানুষকে সম্ভাব্য প্লাবনের আশঙ্কায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নতুন করে কয়েকটি জেলায় অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় প্রশাসনের উদ্বেগও বাড়ছে।
অসমের রাজধানী গুয়াহাটিতেও দুর্যোগের নতুন ধাক্কা। মাথঘারিয়া এলাকায় ভূমিধসে একটি বাড়ি চাপা পড়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক দম্পতি ও তাঁদের ১১ বছরের মেয়ে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে পরিবারের এক সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা গিয়েছে। শহরের অন্য একটি ধসের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে আরও এক বৃদ্ধের। গুয়াহাটির একাধিক রাস্তা জলমগ্ন। অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশে গঙ্গার জল বাড়তে থাকায় বারাণসী-সহ নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জলের নীচে চলে গিয়েছে বারাণসীর ৮৪টি ঘাট। চিত্রকূট এলাকায় মন্দাকিনীর জলও বিপদসীমা ছাড়িয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
দুর্যোগের বলয় থেকে বাদ নেই ঝাড়খণ্ড ও বিহারও। ঝাড়খণ্ডের একাধিক জেলায় বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং কয়েকটি জেলায় আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাল সতর্কতা বহাল রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে রাজ্যের স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। বিহারে গণ্ডক নদীর জল বিপদসীমা পেরিয়ে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের বহু এলাকা প্লাবিত। কোসি-সহ অন্যান্য নদীর জলও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বন্যার জলে অচেনা প্রজাতির মাছ দেখা যাওয়ার ঘটনায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই মাছ খেয়ে অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় জলমগ্ন এলাকায় মাছ ধরা, বিক্রি বা খাওয়া থেকে আপাতত বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। পাহাড়ের ধস থেকে সমতলের বন্যা একযোগে একাধিক রাজ্যে দুর্যোগের বিস্তার এখন প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
















