জৈন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র পর্ব পর্যুষণ চলাকালীন স্কুলের টিফিনে মেথি দিয়ে তৈরি রান্না আনার অভিযোগে এক পড়ুয়ার থেকে ২০ টাকা জরিমানা নেওয়ার অভিযোগ উঠল মহারাষ্ট্রের ভায়ান্দারের একটি স্কুলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, পড়ুয়ার ডায়েরিতে “Fenugreek is a banned vegetable” অর্থাৎ “মেথি নিষিদ্ধ সবজি” বলে নোট লেখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। বিষয়টি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ভায়ান্দার পূর্বের তপোবন স্কুলের এক পড়ুয়া বাড়ি থেকে টিফিনে মেথির রান্না নিয়ে এসেছিল। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ সেই খাবার খেতে দেয়নি। পরিবর্তে স্কুলের ক্যান্টিন থেকে খাবার দেওয়া হয় এবং তার জন্য পড়ুয়ার কাছ থেকে ২০ টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি।
স্কুলে বিপুল সংখ্যক জৈন পড়ুয়া থাকার কারণেই পর্যুষণ পর্বে মেথি-সহ কিছু সবজির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। জৈন ধর্মীয় রীতিতে পর্যুষণের সময় নির্দিষ্ট কিছু খাবার এড়িয়ে চলার প্রথা রয়েছে। তবে মেথি নিয়ে এই অভিযোগই প্রথম নয়। এর আগে একই স্কুলের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের টিফিনে পেঁয়াজ, আলু, আদা, বিট ও গাজর নিয়ে আসার জন্য ৫০ টাকা করে জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা বা এমএনএস-এর তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ১৭ সেপ্টেম্বর মীরা-ভায়ান্দার মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের শিক্ষা আধিকারিক সুলভা ভাঠারে তপোবন বিদ্যালয়কে শোকজ নোটিস পাঠান। পুরো ঘটনার বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।
তবে মেথি নিয়ে নতুন অভিযোগ এবং আগের জরিমানার অভিযোগ—কোনও বিষয়েই এখনও স্কুলের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ফলে ঠিক কী কারণে পড়ুয়াদের টিফিনে নির্দিষ্ট খাবারের উপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, রাষ্ট্র, প্রশাসন বা কোন সংস্থার কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত খাদ্যপছন্দ নির্ধারণ করবে? ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান করা জরুরি, কিন্তু তার সঙ্গে ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতির ভারসাম্য রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের থালায় হস্তক্ষেপ নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা এবং আইনসঙ্গত অধিকার রক্ষাই গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি হওয়া উচিত—এমনটাই মনে করছেন সমালোচকেরা।
















