মাসের বেতন হাতে পাওয়ার আগে একটি অংশ চলে যাবে সঞ্চয়ের খাতে। প্রভিডেন্ট ফান্ডে বাধ্যতামূলক অবদানের সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে এমনই পরিবর্তন আসতে পারে চাকরিজীবীদের বেতন হিসাবে। কেন্দ্রের অনুমোদনের ফলে PF-এর বেতনসীমা ১৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা হতে চলেছে। ফলে এত দিন এই নিয়মের বাইরে থাকা কর্মীদের একটি বড় অংশও EPFO-র আওতায় আসতে পারেন।

নতুন নিয়মে বেতনের ১২ শতাংশ PF-এ জমা পড়ার হিসাব ধরলে ২৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনের ক্ষেত্রে কর্মীর অংশ হবে প্রায় ৩,০০০ টাকা। অর্থাৎ বছরে ৩৬ হাজার টাকা হাতে না এসে জমবে PF অ্যাকাউন্টে। ২০ হাজার টাকা বেতনের কর্মীর ক্ষেত্রে অঙ্ক প্রায় ২,৪০০ টাকা, বছরে ২৮,৮০০ টাকা। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে খরচের জন্য হাতে থাকা টাকা কমলেও কর্মজীবনের শেষে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়বে।

এই পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে EPS-ও। এত দিন পেনশন সংক্রান্ত হিসাবের ক্ষেত্রে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনসীমা কার্যকর ছিল। ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সীমা বাড়লে নিয়োগকর্তার পেনশন তহবিলে জমার অঙ্কও বাড়তে পারে। ৮.৩৩ শতাংশ হিসাবে সর্বাধিক অবদান প্রায় ১,২৫০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ২,০৮৩ টাকা হতে পারে। অর্থাৎ PF-এর পাশাপাশি পেনশন তহবিলেও তুলনামূলক বেশি টাকা যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ফলে নতুন ব্যবস্থার প্রভাব একেবারে বিপরীত দুই দিকে দেখা যাবে। মাসের শেষে হাতে পাওয়া বেতন কমবে, কিন্তু সেই কমে যাওয়া অংশের একটি বড় ভাগ কর্মীর ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ে যুক্ত হবে। প্রায় ১২ বছর পর বেতনসীমা সংশোধনের ফলে EPFO-র সুরক্ষা যেমন আরও বেশি কর্মীর কাছে পৌঁছতে পারে, তেমনই তাঁদের অবসরকালীন সঞ্চয়ের কাঠামোতেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।