ক্ষমতা হারানোর পর এবার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলায় আইনি বিপাকে পড়লেন কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং তাঁর পরিবার। কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড বা সিএমআরএল-কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তথাকথিত ঘুষ কাণ্ডে রাজ্য পুলিশের অপরাধ দমন শাখাকে প্রাথমিক তদন্ত শুরুর অনুমতি দিল ভি ডি সতীশনের নেতৃত্বাধীন নতুন কংগ্রেস সরকার। এই পদক্ষেপের পিছনে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা রয়েছে বলে সুর চড়িয়েছে সিপিআই(এম)।
মঙ্গলবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির সুপারিশের ভিত্তিতেই রাজ্য পুলিশের অপরাধ দমন শাখা এই অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত চালাবে। সেই তদন্তের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়েরের বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, সিপিআই(এম) নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সারবত্তা খতিয়ে দেখতেই তদন্তের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই, সম্পূর্ণ আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই প্রশাসন এই পদক্ষেপ করেছে।
উল্লেখ্য, সিএমআরএল মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, তাঁর কন্যা টি বীণা এবং জামাই তথা সিপিএম নেতা পি এ মহম্মদ রিয়াসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের জন্য কেরল পুলিশের ডিজির কাছে লিখিত সুপারিশ পাঠিয়েছিল ইডি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই কেন্দ্রীয় এই সংস্থার আতশকাচের নিচে ছিলেন বিজয়ন ও তাঁর কন্যা। একাধিক দফায় বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশিও চালিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা।
পরবর্তীকালে কেরল পুলিশের কাছে পাঠানো বিস্তারিত রিপোর্টে ইডি জানায়, তদন্তে এমন বেশ কিছু আর্থিক লেনদেন ও নথির প্রমাণ উঠে এসেছে, যা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি ধারায় পৃথক মামলা দায়ের করার দাবি রাখে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির মতে, এমন কিছু অপরাধমূলক পদক্ষেপ ঘটে থাকতে পারে যা সরাসরি ইডির তদন্তের এক্তিয়ারভুক্ত নয়, ফলে রাজ্য পুলিশের তরফে পৃথক মামলা রুজু করে তদন্ত জরুরি।
ইডির ওই চিঠি ও নথি খতিয়ে দেখার আশ্বাস আগেই দিয়েছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন। সেই পর্যালোচনার পরই মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্য পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিল কেরল সরকার।
















