প্রতিরক্ষায় ক্রমশই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে ভারত। একের পর এক শক্তিশালী অস্ত্র নিজের দেশে উৎপাদনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্যদের দায়িত্ব পাওয়া নিঃসন্দেহে শত্রু দেশগুলোকে ভয় ধরাচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনীতে মহিলা অফিসারদের ভূমিকা গত কয়েক বছরে যথেষ্ট বিস্তৃত হয়েছে। আর এবার নারী শক্তিতেই আস্থা রেখে ভারতীয় প্রতিরক্ষা পরিষেবায় ইতিহাস তৈরি করল ভারত। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে প্রথম মহিলা নন-মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে এয়ার ভাইস মার্শাল পদে বসলেন শক্তি শর্মা (Shakti Sharma)। ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force) তরফে সমাজমাধ্যমে এই খবর জানানো হয়েছে।
প্রায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শক্তির কর্মময় জীবন এই প্রজন্ম এবং আগামী প্রজন্মের মহিলাদের জন্য যথেষ্ট অনুপ্রেরণামূলক। জলের থলে কিংবা অন্তরীক্ষে কোথাও যে মহিলারা দেশসেবার কাজে পুরুষদের থেকে পিছিয়ে নেই সেটা যেন আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন শক্তি।তাঁর এই পদোন্নতিকে মহিলা অফিসারদের সামরিক বাহিনীতে অগ্রগতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে আইএএফ। পয়লা সেপ্টেম্বর এয়ার হেডকোয়ার্টার্সে অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ অব দ্য এয়ার স্টাফ (এডুকেশন) পদে দায়িত্ব নিয়েছেন শক্তি শর্মা। এবার থেকে হেডকোয়ার্টার্সে বায়ুসেনার শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলির দায়িত্ব সামলাবেন। এর আগেও একাধিক নজির গড়েছেন তিনি। তিন বাহিনীর মধ্যে প্রথম মহিলা অফিসার হিসেবে একটি সৈনিক স্কুলের কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কাপুরথলা সৈনিক স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবেও কাজ করেছেন বলে জানা যায়।
শক্তির ক্যারিয়ার গ্রাফ বড়ই শিক্ষনীয়। ১৯৯৪ সাল থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার এডুকেশন ব্রাঞ্চের সঙ্গে কাজের সুযোগ। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, ফিল্ড স্টেশন, কমান্ড হেডকোয়ার্টার্স এবং এয়ার হেডকোয়ার্টার্স-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব যেমন সামলেছেন ঠিক সেভাবেই শক্তি সামরিক ক্ষেত্রে শিক্ষা ও সেনা শিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সমন্বয় তৈরির কাজ করে গেছেন একইভাবে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের সহযোগিতা বাড়ানো এবং কৌশলগত প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে যৌথ কাজের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে আইআইটি কানপুর এবং পুণে বিশ্ববিদ্যালয়ে আইএএফ চেয়ার অব এক্সেলেন্স প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। যত সময় যাচ্ছে ততই অপারেশনাল ক্ষেত্র থেকে সামরিক ক্ষেত্রে গ্রাউন্ডে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতায় ভারতীয় মহিলা অফিসারদের কৃতিত্ব ত্বরান্বিত হচ্ছে। শক্তি নিঃসন্দেহে আগামী প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণা আরেক নাম হয়ে উঠেছেন।
















