Site Logo

সোনারপুরে চূড়ান্ত অব্যবস্থা: মৃত দলীয় কর্মীর বাড়ির পথে বিজেপি কর্মীদের হেনস্থা অভিষেককে

EBBS Desk·
সোনারপুরে চূড়ান্ত অব্যবস্থা: মৃত দলীয় কর্মীর বাড়ির পথে বিজেপি কর্মীদের হেনস্থা অভিষেককে

ঘোষিত কর্মসূচিতে যাওয়ার আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আভাস দিয়েছিলেন সোনারপুরে অশান্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। তা সত্ত্বেও ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোনারপুরে মৃত সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে পৌঁছান তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু সেই পথে তাঁর দিকে ডিম ছোড়া থেকে মারধর পর্যন্ত করা হয়। তাঁর চোখের চশমা ও হাতের ঘড়ি খুলে পড়ে যায় চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে মারধরের জেরে। হামলাকারীদের মুখে জয়শ্রী রাম স্লোগানে স্পষ্ট হয়ে যায়, তাঁরা বিজেপি স্থানীয় বিজেপি কর্মীই ছিলেন। অথচ প্রায় দেড় ঘণ্টার অশান্তির সময়ে একজনও পুলিশ কর্মীকে এলাকায় দেখা যায়নি।

Sponsored

Sranchi In Article

শুক্রবার দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার হন বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দুপুরেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, সোনারপুরে (Sonarpur) কিছু বিজেপি কর্মী গণ্ডগোল করার জন্য তৈরি হয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যান সোনারপুরে। সেই পথেই প্রথমে তাঁকে কালো পতাকা দেখানো হয়। দলীয় কর্মীদের বাইকে চেপে যখন তিনি মৃত সঞ্জু কর্মকারের বাড়ির দিকে রওনা দেন, তখনই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে স্থানীয় বাসিন্দারা। তার মধ্যেই তাঁর মাথায় গায়ে আঘাত করা হয়। তিনি কোনও মতে হেলমেট (helmet) পরে এগোনোর চেষ্টা করলে তাঁর বাইক আটকে গায়ে ডিম ছোড়া হয়।

গোটা এলাকায় একজন সাংসদ পৌঁছালেও প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চললেও একজনও পুলিশকর্মীকে সেখানে দেখা যায়নি। গোটা রাস্তায় হেনস্থার শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মৃতের বাড়িতে পৌঁছান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি জানান, যতক্ষণ না পুলিশ পৌঁছাবে, প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেবে, ততক্ষণ আমি এই বাড়িতেই থাকব। আমি চলে গেলেই এই পরিবারের বাবা-মায়ের উপর হামলা হবে। রাত ১২টা বাজলেও আমি এখান থেকে যাব না।

পরিবারের সঙ্গে কথা বলে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার সক্রিয়া কর্মী ছিলেন সঞ্জু। মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে। তার জন্য বহিরাগতদের অনুমতি নিয়ে আসতে হবে? এটা বাংলার গণতন্ত্রের অবস্থা? জামা-প্যান্ট কি অবস্থা করা হয়েছে। মহিলাদের উপরও হামলা করা হয়েছে।

অভিষেক মৃত কর্মীর বাড়িতে বসে থাকাকালীন সেই বাড়ির ছাদের উপর ইট পড়তে থাকে। অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, আমি দেখা করতে এসেছিলাম। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে আমি পরিবারকে একা ছেড়ে দিতে পারব না। এখানে মিডিয়া রয়েছে, তা সত্ত্বেও চাল ভাঙার চেষ্টা। জানালা-দরজা ভাঙার চেষ্টা। হোয়াটসঅ্যাপে পুলিশ সুপার (SP) পর্যন্ত সতর্ক করা হয়েছিল যে এখানে বহিরাগতরা জমায়েত করেছে। বিজেপি যদি ভাবে ধমকে চমকে ঘরে ঢুকিয়ে দেবে তাহলে তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে।

আরও পড়ুন : দোষীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে, বেলেঘাটায় নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস অভিষেকের

শনিবারের পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে অভিষেক অভিযোগ করেন, যে পরিস্থিতি এরা তৈরি করেছে সিপিআইএম বা মধ্যযুগীয় বর্বরতাও এদের কাছে লজ্জা পাবে। মাথাটা খালি বেঁচে গিয়েছে শুধু একটা হেলমেট (helmet) পরে ছিলাম বলে। চশমা ভেঙে দিয়েছে। ঘড়ি, বেল্ট ছিঁড়ে দিয়েছে। আমি যেভাবে এসেছি সেভাবেই বেরিয়ে যেতে পারি। কিন্তু এই বখাটে ছেলেগুলোই এদের উপর চড়াও হবে।

প্রায় অধঘণ্টা ধরে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়ির বাইরে বাড়ি ঘিরে তাণ্ডব চলার পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। জমায়েত সরানোর চেষ্টা করা হয়।

-

-

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →