মারাত্মক অভিযোগ নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের (Narendrapur Ramakrishna Mission) বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (Tuesday) দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রের (Class 12 student) অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের গাফিলতির কারণেই বিনা চিকিৎসাতেই মৃত্যু হল দীপ্তাংশু মাহাতোর (Diptanshu Mahato)।
গতকাল সকাল সাতটা নাগাদ ক্লাস শুরু হওয়ার আগে দীপ্তাংশু একটি ফ্লাস্ক (Flask) থেকে সরাসরি গরম চা পান করেছিল। তারপর থেকেই তাঁর শরীর খারাপ করতে শুরু করে। কিন্তু কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে সকালের ক্লাস করছিল সে। তারপরে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে মিশনেরই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (Health Centre) নিয়ে যাওয়া হলে বলা হয় তাঁকে বাড়ি পাঠাতে হবে নাহলে হাসপাতালে (Hospital) নিয়ে যেতে হবে। এরপরে সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরফে ফোন করে তার বাবাকে বলা হয়, "ছেলে খুব অসুস্থ। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। তাড়াতাড়ি চলে আসুন।"
দীপ্তাংশুর বাবা যতক্ষণ না নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে পৌঁছন ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে কোনও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ। দীপ্তাংশু কথাও বলতে এবং খেতেও পারছিল না। ফেলে রাখা হয়েছিল মিশনেই। মিশনে নিজেদের গাড়ি থাকা সত্ত্বেও কেন দ্রুত ছাত্রটিকে নিয়ে যাওয়া হল না হাসপাতালে? এই প্রশ্ন উঠছেই।
মিশন থেকে কোনরকম সহযোগিতা করা হয়নি। দুপুর দুটো নাগাদ স্কুলের ছাত্ররাই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। সেই সময় আচমকাই দীপ্তাংশুর রক্তবমি এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ছটফট করতে থাকে সে। তখন এসে পৌঁছন দীপ্তাংশুর বাবা। নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। তার কিছুক্ষণ পরেই খবর আসে মৃত্যু হয়েছে দীপ্তাংশুর। বিনা চিকিৎসায়, রামকৃষ্ণ মিশনের গাফিলতিতে এক ছাত্রের প্রাণ চলে গেল। কিন্তু এই খবর যাতে বাইরে না বেরোয় এর কড়া নির্দেশ ছিল মিশনের বলে অভিযোগ। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র দীপ্তাংশু মাহাতোর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের দাবিতে ফুলবাগান থানার (Phulbagan Police Station) দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার।
















