Site Logo

তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরানোর কারিগর! চিনে নিন এই রমেশকে

EBBS Desk·
তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরানোর কারিগর! চিনে নিন এই রমেশকে

তৃণমূলে বিদ্রোহের পিছনে রয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ সিএম রমেশ। ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং কেন্দ্রের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি কাজে লাগিয়ে তিনি তৃণমূল সদস্যদের দলত্যাগে প্ররোচিত করছেন। সম্প্রতি টিডিপি (TDP) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এই সাংসদের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপি তৃণমূল সাংসদদের (TMC MP) সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বিদ্রোহে (rebellion) মদত দিচ্ছে বলে অভিযোগ।

Sponsored

Sranchi In Article

আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্বে রয়েছেন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব (Bhupendra Yadav)। কিন্তু পর্দার আড়ালে আসল খেলা খেলছেন অন্ধ্রপ্রদেশের ব্যবসায়ী-রাজনীতিবিদ রমেশই (CM Ramesh)। আড়ালে থেকে তিনিই তৃণমূলের বিদ্রোহ সৃষ্টি করতে মূল ভূমিকা পালন করছেন।

Sponsored

Merlin In Article

এই অপারেশন লোটাস প্রক্রিয়ায় নিজের ভূমিকার কথা সম্প্রতি স্বীকারও করে নিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, মানুষকে রাজি করানো বা বোঝানোই আমার দক্ষতা। সেজন্য আমার মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। আমি যেকোনও ব্যক্তিকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য খুব সহজেই রাজি করিয়ে ফেলতে পারি। তিনি আরও জানান, তৃণমূলের অধিকাংশ সাংসদের সঙ্গেই তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয়। সংসদ ভবন বা ক্যান্টিনে নিয়মিত সাক্ষাতের ফলে গত কয়েক বছরে তাঁদের মধ্যে একটি সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ২০২০ সালে তাঁর ছেলের বিয়ের সময় দুবাই ও হায়দরাবাদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দলের সাংসদরা এসেছিলেন। এমনকী সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কট্টর অনুগত হিসেবে পরিচিত বর্তমানে বিদ্রোহী শতাব্দী রায়ও সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। ২২ জন সাংসদকে (লোকসভায় ১৯ জন ও রাজ্যসভায় ৩ জন) মূলত দুটি বিষয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রথমত, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তাঁদের নির্বাচনী এলাকার দেখভাল করা হবে, যাতে এলাকার মানুষ তাঁদের ওপর অসন্তুষ্ট না হন। দ্বিতীয়ত, ইডি-র মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ ও সিআইডি-র নজরদারি বা হয়রানি থেকেও তাঁরা রেহাই পাবেন। বিনিময়ে তাঁদের কেবল দলবদলের নথিতে স্বাক্ষর করতে হবে। অবশ্য রমেশ কোনও রকম অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এর সঙ্গে অর্থের কোনও সম্পর্ক নেই, কোনও পদ বা বাণিজ্যিক স্বার্থও জড়িত নয়। কিন্তু এই অপারেশন লোটাসে যেকোনও অর্ধেক লেনদেন নেই, তা মূর্খেও বিশ্বাস করবে না।

Sponsored

Shyam Sundar In Article

তৃণমূলের এক সাংসদ ও মমতা-ঘনিষ্ঠ নেতা জোর দিয়ে বলেছেন, রমেশকে এই বিদ্রোহের মূল হোতা হিসেবে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, তিনি আসলে তা নন। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) বলেন, রমেশ (CM Ramesh) রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক থাকতে পছন্দ করেন। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ তৃণমূল স্তরে কাজ করে প্রাসঙ্গিক থাকেন। আবার কেউ কেউ ভালো নেটওয়ার্ক বা যোগাযোগের মাধ্যমে প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখেন। রমেশ সবসময়ই প্রাসঙ্গিক থাকতে চান এবং বিজেপির কাছে নিজের গুরুত্ব বা প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করতে পছন্দ করেন। বিজেপির কাছে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণের বিষয়টি অনেকটা এমন—ওরে বাবা, একটা কেক তৈরি হচ্ছে; অন্তত গিয়ে তাতে একটা কিসমিস তো ফেলে দিই। অর্থাৎ, বাংলায় একটা কেক তৈরি হচ্ছে—যার কারিগর তিনি নন, এমনকী প্রয়োজনীয় উপকরণও তাঁর কাছে নেই—তবুও তিনি হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলেন যে, তাঁর কাছে থাকা এক-দুটি কিসমিস তিনি এতে ছড়িয়ে দেবেন। আর এভাবেই সবাই এতে জড়িয়ে পড়েন।

Sponsored

Camelia In Article

তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, ২০১৯ সালেও টিডিপি ছাড়ার ক্ষেত্রে রমেশ একই ধরনের ভূমিকা পালন করেছিলেন। তৃণমূল ছাড়ার ঘটনাগুলোর মূল কারণ যেমন ছিল মমতার ক্ষমতা হারানো, তেমনই ২০১৯ সালে রমেশের তৎকালীন নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু জগন রেড্ডির কাছে ক্ষমতা হারিয়েছিলেন। সে সময়ও—ঠিক বর্তমানের মতোই—এক মাসের মধ্যে টিডিপির (TDP) ছয়জন সাংসদের মধ্যে চারজন দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার বা তৃণমূলের অন্য কয়েকজন সাংসদের মতোই, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে রমেশও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে ছিলেন।

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

অতি সম্প্রতি রমেশ ‘কনস্টিটিউশন ক্লাব’-এর নির্বাচনেও জড়িয়ে পড়েন। সেখানেই তিনি প্রথমবার বিজেপির ঝাড়খণ্ডের সাংসদ নিশিকান্ত দুবের সঙ্গে জোট বাঁধেন‌। তৃণমূল ভাঙানোর এই প্রক্রিয়ার সঙ্গেও দুবে জড়িত ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল রাজ্যসভা সাংসদ (TMC Rajyasabha MP) বলেন, আমরা জানি যে সেই সময় সিএম রমেশ তৃণমূলের তিনজন সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন।

-

-

-

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →