বিধায়কদের কাজ শুধু আইন প্রণয়ন বা রাজনৈতিক বিতর্কে অংশ নেওয়া নয়, সমাজের প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠাও তাঁদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। একইসঙ্গে, কোনও বিধায়ক জনস্বার্থে প্রশ্ন তুললে সরকারকে তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা (Speaker Om Birla)। তাঁর মতে, সমস্যা চিহ্নিত হলেই তার সমাধানের পথ তৈরি হয়, আর সেই সমাধানই রাজ্যের উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলে।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নবনির্বাচিত সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওম বিড়লা বলেন, জনগণ বিপুল আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে বিধায়কদের নির্বাচিত করেন। তাই সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা জনপ্রতিনিধিদের নৈতিক দায়িত্ব। কেবল স্লোগান বা অচলাবস্থা সৃষ্টি করে কখনও প্রকৃত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা বরং বিধানসভার ভিতরে আলোচনা, বিতর্ক, আইন প্রণয়ন এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলি তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে তুলে ধরতে হবে যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজ্যপাল সি রবীন্দ্র নারায়ণ রবি (Governor C. Ravindra Narayana Ravi) নবনির্বাচিত বিধায়কদের সংবিধান, বিধানসভার নিয়ম এবং সংসদীয় নৈতিকতা সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার কথা বলেন। তিনি বলেন, একজন বিধায়ক শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধি। তাই বিধানসভার মর্যাদা বজায় রেখে জনগণের স্বার্থে কাজ করাই তাঁদের প্রধান দায়িত্ব। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প এবং সংস্কৃতির উন্নয়নে প্রত্যেক বিধায়ককে নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ারও কথা বলেন তিনি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস (Rathindra Bose) বলেন, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুধু বিধানসভার নিয়মকানুন শেখার জন্য নয়, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের প্রতি দায়িত্ব আরও দক্ষতার সঙ্গে পালনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তাঁর মতে, 'বিকশিত ভারত ২০৪৭' এর লক্ষ্য পূরণে সচেতন ও প্রশিক্ষিত জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নবনির্বাচিত সদস্যদের জন্য আয়োজিত দুদিনের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির সমাপ্তি হয় শনিবার। বিধানসভা এবং পার্লামেন্টারি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসির (Parliamentary Research and Training Institute for Democracy) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল নতুন বিধায়কদের সংসদীয় কার্যপ্রণালী, আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া, প্রশ্নোত্তর পর্ব, কমিটি ব্যবস্থা, বাজেট এবং জনসেবায় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া।