ভাঙনের নোংরা খেলায় মেতেছে বিজেপি (BJP)। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূলকে (TMC) ভেঙে খান খান করেছে। তার আগে ভেঙেছে বালাসাহেব ঠাকরের শিবসেনাকেও। এখনও সেই ভাঙনের খেলা জারি রেখেছে বিজেপি। তৃণমূল শিবসেনার পাশাপাশি টার্গেটে রয়েছে সমাজবাদী পার্টিও। এবার নয়া টার্গেট কংগ্রেস! গোয়ার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সেই জল্পনাই উসকে দিয়েছে সম্প্রতি। হঠাৎ করেই ‘গোয়া কংগ্রেস পার্টি’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের উদয় ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনে নাম নথিভুক্তির আবেদনও জানানো হয়েছে ইতিমধ্যে। আর তাতেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি এবার টার্গেট কংগ্রেস? ১০০ কোটির অপারেশনের তথ্য খাঁড়া করা হয়েছে, কংগ্রেসের তরফেই। এমনকী সেই দলে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে গোয়ার তৃণমূল ও আপ।
বিভাজনের খেলায় জুড়িমেলা ভার বিজেপির। তাই তো ৩০% ভোট নিয়েই কেন্দ্রের ক্ষমতায় তারা ১২ বছর! সিংহভাগ রাজ্য তারা দখল করেছে বিরোধী দলে বিভাজন ঘটিয়ে। আর এই খেলায় তাদের প্রধান অস্ত্র অপারেশন লোটাস। গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের বাকি আর মাত্র কয়েক মাস। তার আগেই হঠাৎ ‘গোয়া কংগ্রেস পার্টি’র আবির্ভাব কেন? কারা করছে এই দল? সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে। কংগ্রেস আশঙ্কা করছে, এই নতুন দলের নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি। নিশ্চিত হার জেনে ফের টাকা ছড়িয়ে বিরোধী দল ভাঙতে নেমে পড়েছে ময়দানে। কংগ্রেসের ভোটে ভাগ বসাতে বিজেপি এই ডামি দলকে ভোট ময়দানে নামাতে চলেছে।
গত ২৯ মে গোয়া প্রদেশ কংগ্রেসে উল্লেখযোগ্য রদবদল হয়েছে। সভাপতির পদে অমিত পাটকরের স্থলাভিসিক্ত হয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা গিরীশ ছোন্ডকর। তার নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন অমিত। আর তারপরই নতুন কংগ্রেস ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগ থেকেও ইস্তফা দেন দু’জন। প্রশ্ন উঠেছে, ২০২২ সালের নির্বাচনে যে ভরাডুবি হয়েছে, তারপরও কেন গিরীশকে ফিরিয়ে আনা হল? গোয়া প্রদেশ কংগ্রেস যদিও দলে ভাঙনের কথা মানছে না। তাদের দাবি, ধর্মনিরপেক্ষ ভোট কাটতে নামসর্বস্ব ওই রাজনৈতিক দলটির আমদানি করেছে বিজেপি-ই। গিরীশ বলেন, ১০০ কোটি টাকার দল। মানুষের ক্ষোভ, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা টের পেলেই এই পুরনো দল ভাঙনের ফর্মুলায় ফিরে যায় বিজেপি। নতুন কোনও দল আমদানি করে ভোট বৈতরণী পার হতে চায়। এবার মানুষ এর জবাব দেবে। বেকারত্ব, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দুর্নীতি, জমি কেলেঙ্কারি, প্রতিশ্রুতিভঙ্গ দেখে বিজেপি-ও বুঝতে পারছে তাদের শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে। আমাদের সেই বিশ্বাস গোয়ার রাজনীতি সচেতন মানুষ এ ধরনের ফাঁদে পা দেবেন না।
















