রাজ্যের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনে মন দিয়েছেন। অতীতের অসহিষ্ণু রাজনীতির ক্ষত, তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা ভোলেননি তিনি, কিন্তু বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়কদের প্রশিক্ষণ শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিষ্টাচারের সঙ্গে গঠনমূলক বিধানসভা পরিচালনার শিক্ষণে জোর দিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মনে করিয়ে দিলেন সৌজন্যের রাজনীতির কথাও।
লোকসভার সচিবালায় ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার যৌথ উদ্যোগে নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে (Biswabangla Convention Centre) শুক্র ও শনিবার নবনির্বাচিত বিধায়কদের আইনসভা পরিচালনার পাঠ শেখানো হবে। আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla), কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস-সহ আরও অনেকে। মুখ্যমন্ত্রী দিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করে ৩৪ বছরের বাম রাজত্বের দাদাগিরির কথা তুলে ধরেন। আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও। বলেন, “এখানকার প্রশাসনিক ব্যবস্থা আগে এতটা খারাপ ছিল না। বামেদের ৩৪ বছর সব সিদ্ধান্ত তো পার্টি অফিস থেকে হত, বিধানসভার কোনও ভূমিকাই ছিল না। আর গত পনেরো বছরে যা হয়েছে, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আজ কোনও কটু কথা বলতে চাই না, তবে কিছু রূঢ় বাস্তব আমাদের মেনে নিতেই হবে। রাজ্যে এমন এক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল যেখানে বিরোধী দলের বিধায়ক ও সাংসদদের কোনও মূল্যই ছিল না। এমনকি থানার ওসি-আইসিরাও তাঁদের পাত্তা দিত না; সব ক্ষেত্রেই শুধু রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হত।” বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তিনি যে কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে ডাক পাননি এদিন সে কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে বিজেপি সরকার (BJP Government) ক্ষমতায় আসার পর প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটেছে। সেই কারণেই তাঁর সব প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়। দলমত নির্বিশেষে গুরুত্বসহকারে সকলের অভাব অভিযোগের কথা শোনা হয় বলেও দাবি করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মুখ্যমন্ত্রী এদিন নবনির্বাচিত বিধায়কদের বলেন মনোযোগ সহকারে সংসদীয় কার্যপদ্ধতি শেখার প্রয়োজনীয়তার কথা। বাংলার রাজনীতির প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তুলে ধরেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের প্রসঙ্গও।
















