Site Logo

কার অঙ্গুলি হেলনে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি থেকে অ্যাডজুডিকেশন: অভিষেকের ৩ প্রশ্ন

EBBS Desk·
কার অঙ্গুলি হেলনে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি থেকে অ্যাডজুডিকেশন: অভিষেকের ৩ প্রশ্ন

ভোটার তালিকা থেকে বাংলার ন্যায্য ভোটারদের নাম বাদ দিতে একের পর এক পন্থা নিচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তালিকা কারচুপির জন্য যে পন্থা নির্বাচন কমিশন নিচ্ছে, বারবার সেই চক্রান্ত তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) পেশ করেছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তারপরেও শনিবার পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে যে কারচুপি উঠে এসেছে তা নিয়ে আবার বিচার ব্যবস্থার সামনে নিয়ে যাওয়ার দাবি তুললেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিলেন কমিশনের বিরুদ্ধে তিন প্রশ্ন।

Sponsored

Sranchi In Article

প্রাথমিকভাবে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন করতে গিয়ে কীভাবে কারচুপি করেছে নির্বাচন কমিশন, তা এক বছর আগে তুলে ধরেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে সেই কারচুপি হিসাবসহ পেশ করলেন অভিষেক। সেখানেই তাঁর প্রথম প্রশ্ন, যে খসড়া তালিকা ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে বেরিয়েছিল সেখানে প্রায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের নাম ছিল। পরবর্তী কালে আড়াই মাস শুনানি, অভিযোগ সব হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছে। গতকাল যে তালিকা বেরিয়েছে সেখানে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তাতে সব মিলিয়ে ১ লক্ষ ৮২ হাজার ফর্ম-৬ ভর্তি করেছে। অর্থাৎ নাম তোলার ক্ষেত্রে। মোট ডিলিশনের ক্ষেত্রে ফর্ম-৭ এর ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৫৩ জন রয়েছে। সিইও-র যে টুইটার সেখানে ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ একটি বুলেটিন জারি করা হয়েছিল। ১৯ জানুয়ারি ছিল ফর্ম-৭ (Form-7) জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে শেষ দিন। সেটা বেরিয়েছিল সন্ধ্যা ৭.০৬ মিনিটে। সেখানে ফর্ম-৭ এর সংখ্যা ছিল ৪১ হাজার ৯৬১। গতকাল যে আপডেট ইস্যু করা হয়েছে সেখানে ফর্ম-৭ যে সংখ্যা সেখানে ৫ লক্ষ যুক্ত হল কীভাবে?

এই নাম সংযোজনের পাশাপাশি নাম বাদ দিতেই বিরাট কলকাঠি নেড়েছে বিজেপি। বিজেপির নির্দেশে কীভাবে তালিকা লম্বা করেছে নির্বাচন কমিশন, সেই তথ্য তুলে ধরে অভিষেকের দাবি, প্রথম যখন ২৭ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল তখন লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির কোনও নাম উল্লেখ ছিল না। কার্যত খসড়া তালিকায় আমরা দেখেছি যে সব রাজ্যে এসআইআর চলছে তার মধ্যে বাংলায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ সবথেকে কম। যদিও টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কেউ বলেছে ১ কোটি, কেউ ১ কোটি ২০ লক্ষ, কেউ ১ কোটি ২৫ লক্ষ নাম বাদ যাবে। সেই টার্গেট পূরণের লক্ষ্যে জোরজবরদস্তি লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি (Logical Discrepancy) নামে একটা জিনিস তৈরি করল। তৈরি করে ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে ঢুকিয়ে দিল। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির সঙ্গে আরেকটা বিভাগ ছিল আনম্যাপড (unmapped)।

লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে যখন সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন, তখন ঠিক কোন পথে সেই তালিকাতেও কারচুপি নির্বাচন কমিশনের, রবিবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে তাও স্পষ্ট করে দেন অভিষেক। তিনি দ্বিতীয় প্রশ্ন তোলেন, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টত বলা হয়েছিল অমীমাংসিত যে কেস ছিল তা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে যাবে। ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে ইআরও-দের পোর্টাল ফ্রিজ করে দেওয়া হয়। ২১ তারিখের রাতের পর থেকে যে কেস ২১ তারিখ পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে তা নিয়ে আর প্রশ্ন থাকবে না। ২১ তারিখের পর থেকে যে কেস অমীমাংসিত তাই যাবে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের (Judicial Officer) কাছে। ১৪ লক্ষ কেস ছিল অমীমাংসিত (Adjudication)। বাকি সব নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছিল। কোন যাদুকাঠির বলে রাতারাতি ১ সপ্তাহের মধ্যে এই ১৪ লক্ষ কেস বেড়ে ৬০ লক্ষ হল? যার মীমাংসা হয়ে গিয়েছে পোর্টাল ফ্রিজ হওয়ার আগে পর্যন্ত, কার অঙ্গুলি হেলনে কাদের চাপে, এই বাড়তি ৪৬ লক্ষ কেস আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে আনা হল?

আরও পড়ুন : হার নিশ্চিত বুঝেই ভোট পিছোতে চাইছে বিজেপি: ভোটার তালিকা জটিলতায় তোপ অভিষেকের

যেভাবে মৃত ভোটারের খেলা খেলেছে নির্বাচন কমিশন তা নিয়েই তৃতীয় প্রশ্ন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সিইও-কে প্রশ্ন করা হয়েছে, কারো নাম বাদ পড়ে থাকলে বা কাউকে মৃত দেখানো হলে, সেটা সিইও-র কাছে ছোটখাটো ব্যাপার। ১৬০ জন মারা গিয়েছেন। ওনার কাছে ছোটখাটো ব্যাপার। গতকাল রাত থেকে এক ডাকে অভিষেকে ফোন এসেছে ২৪৩ জনের। তাঁদের মৃত দেখানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সব জেলা মিলিয়ে এত লোককে মৃত দেখিয়ে দেওয়া হল। তার পরেও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এই সব ঘটনাকেই বলছেন ছোটখাটো ব্যাপার।

-

-

-

-

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →