রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অ্যাকাউন্টে কত টাকা রয়েছে, এবার সেটাই লিখিত আকারে জানাতে হবে কলকাতা হাইকোর্টকে (Calcutta High Court)। বৃহস্পতিবার এমনই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (Sougata Bhattacharya)। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পর কার্যত দুটো ভাগে ভাগ হয়ে গেছে ঘাসফুল শিবির। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে থাকা বিধায়ক-সাংসদদের নিয়ে 'কালীঘাট তৃণমূল' এবং অন্যদিকে বিদ্রোহীদের 'ঋতব্রত-পন্থী তৃণমূল', এদের মধ্যে কার কাছে থাকবে তৃণমূলের তহবিল এখন এটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস দলের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য ব্যাংকে চিঠি পাঠানোর পর মামলা গড়িয়েছে আদালতে। আজ শুনানির শুরুতেই তৃণমূলের সংশ্লিষ্ট ৩ অ্যাকাউন্টে মোট অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে তথ্য চাইলেন বিচারপতি। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে রাজ্যকে সে বিষয়ে জানাতে হবে। পাশাপাশি তদন্তে কী কী পাওয়া গেছে সে তথ্য -প্রমাণও জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মমতা-পন্থী বনাম ঋতব্রত-পন্থীদের লড়াইয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সেখানে কখনও উঠে আসছে দলীয় প্রতীক প্রসঙ্গ, কখনওবা তহবিলের মালিকানার কথা। তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষের ব্যাংকে পাঠানো চিঠির পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) শিবিরের দশ বিধায়ক পুলিশে অভিযোগ করেন যে তৃণমূলের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার যে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেখানে লেনদেন সংক্রান্ত স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অবিলম্বে সেগুলো ব্লক করার দাবি জানিয়ে চিঠি দেন তাঁরা। এরপর পুলিশ প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করে অ্যাকাউন্টগুলিকে ফ্রিজ করে।সোমবার জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানির আর্জি জানিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী। ঠিক হয় বৃহস্পতিবার শুনানি হবে। সেইমতো আজ বিচারপতি ভট্টাচার্য তহবিল সংক্রান্ত মামলায় সমস্ত পক্ষের বক্তব্য লিখিত আকারে জমা দেওয়া নির্দেশ দেন। এছাড়াও আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ৭ জুলাইয়ের মধ্যে তৃণমূলের অ্যাকাউন্টের টাকার মোট পরিমাণও আদালতকে জানাতে হবে।