কেন্দ্রের ই-২০ পেট্রোল (E20 Petrol) চালু করার প্রতিবাদে রবিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ধর্নায় 'টিম ভারত'। উদ্যোক্তা তথা টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব তাহসিন পুনাওয়ালার (Tehseen Poonawalla) নেতৃত্বে রবিবার এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দাবি করা হয়, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির বিরোধিতা নয়, বরং পর্যাপ্ত বিকল্পের ব্যবস্থা ছাড়াই ই-২০ পেট্রোল কার্যকর করা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা, নীতির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রকাশ এবং ভোক্তাদের পছন্দের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতেই এই আন্দোলনের আয়োজন।
ধর্নার আগে তাহসিন পুনাওয়ালা জানান, দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) মৌখিকভাবে কর্মসূচির অনুমতি দিলেও ধর্নায় ২০০ জনের বেশি অংশগ্রহণ না করার শর্ত দিয়েছে। এই শর্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নির্ধারণ করা উচিত নয়। তাঁর দাবি, যন্তর মন্তরে কর্মসূচিতে কোনও বাধা সৃষ্টি করা হলে তাঁরা কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গডকরির বাসভবনের সামনেও প্রতিবাদে বসবেন। একইসঙ্গে রবিবারই তিনি ই-২০ নীতি নিয়ে সরকারের দাবি এবং আগের দিনের বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার কথা জানান।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁদের আপত্তি ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির বিরুদ্ধে নয়, বরং গাড়ির মালিকদের জন্য উপযুক্ত জ্বালানির বিকল্প না রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, যে গাড়ির জন্য যে ধরনের জ্বালানি উপযুক্ত, সেই জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ গাড়ির মালিকদের থাকা উচিত। দিনেশ তান্তিয়ার (Dinesh Tantia) দাবি, সরকার ই-২০ নীতির পক্ষে ব্রাজিল ও আমেরিকার উদাহরণ দিচ্ছে। কিন্তু ওই দেশগুলিতে ভোক্তাদের একাধিক ধরনের জ্বালানি বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ভারতেও সেই বিকল্প থাকা উচিত বলে তাঁর দাবি। পাশাপাশি, ই-২০ জ্বালানির কারণে কোনও গাড়ির ক্ষতি হলে তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তাঁরা। নীতির ভিত্তিতে থাকা গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রকাশ করারও দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, শনিবার অটোমোবাইল (Automobile) ও জ্বালানি ক্ষেত্রের একাধিক বিশেষজ্ঞ ই-২০ কর্মসূচির পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নির্ধারিত মানদণ্ড মেনেই এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ই-২০ জ্বালানি ব্যবহারে গাড়ির ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনও সমস্যা পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও দাবি করা হয়। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, সরকারের দাবি এবং বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের জবাব দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হবে এবং আন্দোলনও চালিয়ে যাওয়া হবে।
















