মঙ্গলের মধ্যরাতে বারুইপুর ধর্ষণ খুনের কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের (Prabhash Mondal) এনকাউন্টার। পুলিশের অতিসক্রিয়তায় যে সব প্রশ্ন উঠছে দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে:
১. পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী অপরাধের ঘটনার পুনর্নির্মাণ বা ঘটনার বিবরণ যাচাইয়ের জন্য পুলিশ প্রভাসকে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে নিয়ে গিয়েছিল। ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি অস্বাভাবিক সময়! অন্ধকারে কীভাবে এই পুনর্নির্মাণ সম্ভব! তাছাড়া এই ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণত ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে পুনর্নির্মাণ করা হয়; পুলিশ কি কোনো ভিডিওগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়েছিল?
২. বর্তমান পরিস্থিতিতে তথাকথিত "পুনর্নির্মাণ"-এর সময় পুলিশ কাউন্সিলরদেরও দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। যেহেতু এটি একটি হাই-প্রোফাইল বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলা এবং অভিযুক্তকে দেখতে পেলে জনরোষের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, তাই তাঁকে হাতকড়া পরানো, দড়ি দিয়ে বাঁধা এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা জরুরি ছিল। এসব কি করা হয়েছিল? যদি না হয়ে থাকে, তবে কেন নয়? তাঁকে কেন হাতকড়া পরানো হয়নি? আর যদি হাতকড়া পরানোই থাকত, তবে সে কীভাবে পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালাতে পারল?
৩. এছাড়া পুলিশ আধিকারিকরা সাধারণত তাঁদের বন্দুক বা রিভলবার ল্যানইয়ার্ড দিয়ে আটকে রাখেন। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশ কর্মকর্তারা কি সেটা করেছিলেন?
৪.পাশাপাশি এটাও দেখা প্রয়োজন যে গুলির প্রবেশপথ (entry wound) ও নির্গমনপথ (exit wound) কোথায়? পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার পর অভিযুক্ত কত রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল? পুলিশ কত রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল? পুলিশ কী পায়ে গুলি করেছিল? নাকি তারা এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছিল?
৫.যেহেতু সময়টা ছিল মধ্যরাতের পর, তাই অন্ধকার ছিল। অন্ধকারে পুলিশ কীভাবে একজন পলাতক (অভিযোগ অনুযায়ী) অভিযুক্তকে দেখতে পেল!
৫. যেহেতু এটি একটি হাই-প্রোফাইল মামলা—যেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী থানায় গিয়েছিলেন তাই নিশ্চয়ই নীচের স্তরের কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তাঁরাও নিশ্চয়ই এর ঝুঁকি বা বিপদ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন। তাহলে তাঁরা কেন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলেন না?
















