পয়লা জুলাই চিকিৎসক দিবস (Doctor's Day)উপলক্ষে স্বাস্থ্য ভবনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে বিঁধলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বুধবার সকাল এগারোটা নাগাদ স্বাস্থ্য ভবনে পৌঁছে ডক্টর বিধানচন্দ্র রায়ের মূর্তিতে মাল্যদান করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার পাশাপাশি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাও জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-সহ (Agnimitra Paul) স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক আধিকারিক, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "রাজ্যের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু একসময় বলেছিলেন, যেখানেই হাত দিচ্ছি, সেখানেই দেখছি বিধানচন্দ্র রায় কাজ শুরু করেছিলেন। আর আমি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বলতে বাধ্য হচ্ছি, যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই ধ্বংসলীলা দেখতে পাচ্ছি।”

 

এদিন স্বাস্থ্য পরিষেবার একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ফ্ল্যাগ অফ করে ২০০ টি অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স চালু করেন যা গর্ভবতী মহিলা ও নবজাতকদের জন্য ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি এই দিন স্বাস্থ্য ভবনের (Swasthya Bhawan) নতুন কন্ট্রোল রুমের উদ্বোধন এবং সরকারি হাসপাতালে নজরদারির জন্য হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা পরিষেবায় কোন রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না। আমরা ওরা বিভেদ বরদাস্ত করা হবে না। বাংলার চিকিৎসকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমাদের রাজ্যে এত ভালো ভালো ডাক্তাররা থাকা সত্ত্বেও ভিন রাজ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে বাঙালিদের লম্বা লাইন। কেন? এ রাজ্যে কি পরিষেবা দেওয়া যায় না? তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের বদলে রাজনৈতিক বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের অবদানের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, আধুনিক পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ও নগর পরিকাঠামো গড়ে তোলার পিছনে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। কুড়ি বছর আগে থেকেই তাঁকে নিয়ে পড়াশোনা করেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গেই প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর(Jyoti Basu) কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাম আমলের মুখ্যমন্ত্রী যে কাজ শুরু করতে গেছিলেন তা আগে থেকে বিধান রায় করে গিয়েছিলেন। আর এই মুহূর্তে তাঁকে ধ্বংসলীলার উপর কাজ শুরু করতে হচ্ছে। নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশাকে নিশানা করেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) । জানান, বাংলায় যে ডাক্তাররা রয়েছেন তারা শুধু ভারতবর্ষের নয় বিশ্বের যে কোন আধুনিক রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে টেক্কা দিতে পারেন। চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য ভারতীয় নেয় সঙ্গীতার নতুন আইন থেকে শুরু করে আয়ুষ্মান ভারতের মউ স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ ডাক্তার বিধান রায়ের জন্মদিনে একদিকে যেমন তাঁর প্রশাসনিক মানবিক এবং চিকিৎসক রূপের প্রশংসা করেছেন শুভেন্দু পাশাপাশি, তৃণমূল আমলে স্বাস্থ্য পরিষেবার অব্যবস্থার কথা তুলে ধরে বর্তমান বিজেপি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে চেয়েছেন তিনি, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

 

জাতীয় চিকিৎসক দিবসের অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ডাক্তারদের সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিধাননগর সাব ডিভিশনাল হাসপাতালের নতুন নাম হচ্ছে ‘ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল’। রাজ্যের অন্যতম প্রখ্যাত চিকিৎসক তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়কে সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।