মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ। তাঁকে স্মরণ করে বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের তরফে আয়োজন করা হয় বিশেষ পদযাত্রার। নন্দন প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য পদযাত্রায় চলচ্চিত্র জগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি নজর কাড়ে। সামনের সারিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশেই জিৎ, ঋতুপর্ণা, বিশ্বনাথ, চিরঞ্জিৎ, কাঞ্চন মল্লিকরা। 

শুভেন্দু অধিকারীর পাশে এ দিন দেখা যায় পূর্ণিমা চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, প্রয়াত গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী, অপরাজিতা আঢ্য, জিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, যিশু সেনগুপ্ত, ইন্দ্রাণী হালদার, সস্ত্রীক কাঞ্চন মল্লিক, কলকাতা পুরসভার পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে, অঞ্জনা বসু, বিশ্বনাথ বসু, কৌস্তভ বাগচি, তমগ্ন ঘোষ-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে।

পদযাত্রায় বিশেষ নজর কেড়েছে হুটখোলা গাড়ি। সেই গাড়িতে ছিলেন উত্তমকুমারের সঙ্গে একাধিক ছবিতে অভিনয় করা অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর, পরিচালক সন্দীপ রায় এবং অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক। মহানায়কের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ অভিনয় ও চলচ্চিত্র-সম্পর্কের স্মৃতিই যেন এ দিনের আয়োজনকে আরও আবেগঘন করে তোলে। তবে এই তারকার মেলার মধ্যেও কয়েকজন পরিচিত মুখের অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা । বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, শর্বরী ঘোষ, হিরণ ভট্টাচার্য এবং রুদ্রনীল ঘোষকে এ দিনের পদযাত্রায় দেখা যায়নি। মিছিলে না থাকলেও, পরি অনুষ্ঠানে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্ধনীল ঘোষ।

নন্দন প্রাঙ্গণে মহানায়ক উত্তমকুমারের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে পদযাত্রার সূচনা করা হয়। মহানায়কের কালজয়ী সিনেমার পোস্টার, ব্যানার এবং বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে পদযাত্রায় পা মেলান টলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রী, কলাকুশলী, সঙ্গীতশিল্পী এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।  পদযাত্রা শেষে  বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই টলিপাড়ার সমস্ত তারকাকে জানান ধন্যবাদ। বলেন, “এদিন উত্তমকুমার আমাদের মিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি আমাদের মধ্যে ছিলেন আছেন এবং আগামীতেও থাকবেন। একসঙ্গে কাজ করব। কোনও ভেদাভেদ নেই।“ সেইসঙ্গে এদিন উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে কেক কাটেন মুখ্যমন্ত্রী। খাইয়ে দেন বিশ্বজিৎদের।  

অন্যদিকে, সস্ত্রীক কাঞ্চন মল্লিকের উপস্থিতি ঘিরেও তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। কাঞ্চন মল্লিক উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক। ফলে শুভেন্দু অধিকারীর পাশে তাঁকে এ ভাবে দেখা যাওয়ার পরেই প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানে বড় কোনও পরিবর্তন আসতে চলেছে? তিনি কি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন? যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। নন্দন প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে পদযাত্রাটি রবীন্দ্র সদন চত্বর ঘুরে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস পর্যন্ত যায়। মহানায়কের জন্মশতবর্ষে এই বিশেষ পদযাত্রায় একদিকে যেমন ফিরে দেখা হল উত্তমকুমারের অমর অভিনয় ও চলচ্চিত্র-ঐতিহ্য, তেমনই তারকাদের উপস্থিতিতে তৈরি হল নস্টালজিয়া ও আবেগের আবহ।