প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিকৃত ছবি, ফেস্টুন হাতে মিছিলে হাঁটার অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রকে (Actress Sreelekha Mitra) রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। তবে একইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর বা উস্কানিমূলক পোস্ট নিয়ে অভিনেত্রীকে কড়া বার্তা দিয়েছে আদালত। গত জুলাইয়ে কলকাতায় বিজেপির প্রতিবাদ মিছিলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Prime Minister Narendra Modi) একটি বিকৃত ছবি সহ ফেস্টুন হাতে দেখা গিয়েছিল অভিনেত্রীকে। সেই ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। পাশপাশি রাজ্যের থানায় থানায় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা তাঁর নামে এফআইআর করেন। মোট ১৬ টি এফ আই আর এর প্রেক্ষিতে গতকাল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। অভিনেত্রীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Actress's lawyer, Bikash Ranjan Bhattacharya) বলেন, "তাঁর মক্কেল ইতিমধ্যেই আনন্দপুর থানায় হাজিরা দিয়েছেন তাই এই মামলায় সকল সহায়তা করবেন তাঁর মক্কেল" এবং তিনি রক্ষাকবচ দাবি করেন। পাল্টা রাজ্যের আইনজীবী বলেন, "রুচিহীন কদর্য ছবি আপলোড করেছেন, তাতে উস্কানি আছে" প্রত্যুত্তরে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "রুচিহীন যদি হয়, সেটাও ক্রাইম নয়।"
যদিও কোনও মামলাতেই গ্রেফতার হবে না অভিনেত্রী তবুও রক্ষাকবচ দিয়েও বিচারপতি স্পষ্ট করেন "পরবর্তীতে ভিন্ন ধর্ম ভিন্ন জাতির উপর কুরুচিকর মন্তব্য করলে এই মামলায় ক্রিমিনাল ধারা যুক্ত করা হবে।তিনি ভর্ৎসনা করে জানান, কেন একজন সংবেদনশীল নাগরিক এই ধরনের একটা ছবি পোস্ট করবেন তা কার্টুন বা অন্য যাই হোক। বিচারপতি আরও বলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য্যের উদ্দেশে "আপনি তো একজন রাজনীতিক,আপনি মানবেন? সব মামলা একসঙ্গে শুনতে হবে।"
আদালত এদিন বলে যে নাগরিক কদর্য পোস্টার নিয়ে মিছিলে হাঁটেন তার সাজার সর্বোচ্চ মেয়াদ সাত বছর হওয়ায় তাই তিনি তদন্তে সহযোগিতা করলে তাঁকে রক্ষাকবচ দিতে হবে। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। আদালত নির্দিষ্ট করে বলেন তাঁকে তলব করতে হলে ৪৮ ঘণ্টা আগে তাঁকে নোটিশ দিতে হবে। তিনি সহযোগিতা না করলে পুলিশ হাই কোর্টকে জানাবে।
নেতা কিংবা অভিনেতাদের এই ধরনের অযাচিত মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে মিমের, নামে বিকৃত পোস্টের জেরে পুলিশি হেফাজতে জড়িয়েছেন অনেকেই । এর মধ্যে স্বঘোষিত বামপন্থী শ্রীলেখা মিত্রের নাম প্রায় উঠে আসে। কখনো কোনো শাসক বা বিরোধী নেতাদের কুমন্তব্য করা কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ।একই ভাবে তিনি সরকার বদলের পরে নিশানা করেছেন বিজেপি নেতাদের। মাস তিনেক আগেও নিজের ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করে কুৎসা রটানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর নামে। তবে তাঁর সতীর্থ মহলেই এই নিয়ে উঠেছে বারংবার প্রশ্নের ঝড়, যদিও থানায় অভিযোগ দায়ের হয়নি।
তবে এই সব সীমা ছাড়িয়ে যায় গত জুলাই মাসে। সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের ছবির প্রতিবাদে মামলা দায়ের হয়। আদালত অভিনেত্রীকে সহযোগিতার নির্দেশ দেন।আগামী শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট দিতে হবে আদালতে। ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত রক্ষাকবচ বজায় থাকবে। পরবর্তী শুনানি ১৪ ডিসেম্বর।
















