চেতলার পর এবার ঢাকুরিয়া। সুইমিং পুলে ডুবে মৃত্যু সাঁতারুর। মৃতের নাম নাম সরিপ ঘোষ। বয়স ১৬। সে শহরের একটি নামকরা স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। শুক্রবার বিকেলে পুলে সাঁতার কাটার সময়ই জলে ডুবে তাঁর মৃ্ত্যু হয়।
সরিপ প্রায় সাত বছর ধরে সাঁতার কাটছে। সুইমার বলে তার পরিচিতি ছিল। শুক্রবার বিকেলেও নিয়ম মেনে শুক্রবার সে ঢাকুরিয়ার ওই সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে নামে। কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ তলিয়ে যেতে থাকে।
রবীন্দ্র সরোবরে লেক ফ্রেন্ডস সুইমিং ক্লাবের এই ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিল শহরের সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো নিয়ে । পুলিশ সূত্রে খবর,শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। জানা গিয়েছে, আন্ডার ওয়াটার প্রশিক্ষণ চলছিল। সেইসময়ই ওই কিশোর তলিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
অনুশীলন করা সাঁতারুরা উঠে এলেও সরিপের পুল থেকে না ওঠার বিষয়টি বেশ কিছুক্ষণ পর নজরে আসে প্রশিক্ষকদের। তারপরই শুরু হয় খোঁজ। অচৈতন্য অবস্থায় পুল থেকে উদ্ধার করা হয় সরিপকে। কিন্তু, শেষপর্যন্ত বাঁচানো যায়নি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
প্রশিক্ষক সুবর্ণ গোস্বামীর দাবি, ‘ওই সুইমিং ক্লাবে মহিলা এবং পুরুষ, দু’জনের জন্যই সাঁতার শেখার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রায় ৭৫ ফুট চওড়া পুলকে দু’ভাগে ভাগ করা ছিল। এ দিন মাঝের ব্যারিকেড তুলে দেওয়া হয়েছিল। ৭৫ ফুটের সুইমিংপুলে দু’রাউন্ড সাঁতার কেটেছিল সরিপ। মহিলারা যে দিকে সাঁতার কাটেন, সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।’
পুলিশ সূত্রের খবর, কী ভাবে ওই কিশোর জলে তলিয়ে গেল, প্রশিক্ষক বা ক্লাব কর্তৃপক্ষের কোনও গাফিলতি ছিল কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিছুদিন আগে চেতলার সুইমিংপুলেও ঠিক একই রকমের ঘটনা ঘটেছিল
গত ২২ জুন ২০২৬, চেতলা অগ্রণী ক্লাবের সুইমিং পুলে ডুবে যুবকের মৃত্যু হয়। মৃত যুবকের নাম ঋত্বিক চক্রবর্তী। বয়স ১৯ বছর। কালীঘাট এলাকার বাসিন্দা ঋত্বিক স্নায়ুর সমস্যায় দীর্ঘদিন আক্রান্ত ছিলেন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলিতে ভর্তির আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা মেডিক্যাল ফিটনেস অনেক ক্ষেত্রে না করার অভিযোগ উঠেছে। অনেকক্ষেত্রে সুইমিং পুল গুলিতে উপযুক্ত পরিকাঠামো থাকে না। সমানভাবে নজরদারিও চলে না। এতেই ঘটে যাচ্ছে বড়সড় দুর্ঘটনা।
















