বিতর্কের রেশ যেন কিছুতেই কাটছে না যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এবার চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে নাম পরিবর্তন। যাদবপুরের বিধায়কের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন বিজেপি বিধায়র শর্বরী মুখোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শুরুতেই তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করলেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ঋষি অরবিন্দের নামে করার কথা বলেন শর্বরী।
এই প্রসঙ্গে সৃজন বলেন, যাদবপুরের মাননীয় বিধায়ক শর্বরী মুখার্জি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন আমি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি৷ আমাদের বক্তব্য, বিজেপি যে সব নামবদল করছে, তার পিছনে তো তাদের নিজস্ব পছন্দ এবং আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য কাজ করে। এখন ঋষি অরবিন্দ একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী, আলিপুর বোমা মামলায় তিনি জেলে ছিলেন। এহেন অরবিন্দ নামে নামকরণ করে কি বিজেপির উদ্দেশ্য পূরণ হবে? মনে হয়, হবে না। তাই আমার প্রস্তাব, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম একেবারে নাথুরাম গডসের নামে হোক। নন্দলাল বসুর জ্ঞানশিখা প্রতীকটি বদলে হোক সাভারকারের মুচলেকা দেওয়া প্রতীক। ভিসি হয়ে যান শর্বরী মুখোপাধ্যায় নিজে।”
এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঋষি অরবিন্দের আদর্শ ও স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে ‘ঋষি অরবিন্দ বিশ্ববিদ্যালয়’ রাখা হোক। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চ থেকে তথাকথিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’র বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ডাক দেন তিনি। তবে শিক্ষাঙ্গনের একটি সভায় শিক্ষামূলক বিষয়ের পরিবর্তে তীব্র রাজনৈতিক বক্তব্য এবং নামবদলের দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ত্রিগুণা সেন মঞ্চে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রস্তাবিত অতিথিদের অনেকেই ছিলেন অনুপস্থিত। দেখা যায়নি স্বপন দাশগুপ্ত, শমীক ভট্টাচার্যদের। তবে ছিলেন রাহুল সিং, শর্বরী মুখোপাধ্যায়রা। আলোচনার বিষয়বস্তু জাতীয়তাবাদ ও আধুনিক ভারত হলেও বার বার উঠে এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ।
বিগত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ফের খবরে শিরোনামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের ঐতিহ্যশালী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এবিভিপির সমর্থকদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেছে শিক্ষামূলক। এরই মধ্যে যাদবপুর নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা ছিল রাষ্ট্রবিরোধী বা দেশবিরোধী কোনও কার্যকলাপ করা যাবে না বা স্লোগান সেখানে দেওয়া যাবে না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি দেয়ালে যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান এবং কিষেণজির নামে স্লোগান লেখা ছিল সেগুলি মুছে ফেলার জন্য সেই লেখার উপরে চুনকাম করে দেওয়া হয়েছিল।















