হাজিরা কম থাকায় সেমেস্টার পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও কলেজ চত্বরে চলল পড়ুয়াদের বিক্ষোভ ও উপাধ্যক্ষা (ভাইস প্রিন্সিপাল)-কে ঘেরাও কর্মসূচি।
বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, আইন পাঠ্যক্রমের সেমেস্টার পরীক্ষায় বসতে গেলে ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিতি থাকা বাধ্যতামূলক; চিকিৎসার ক্ষেত্রে তা সর্বাধিক ৭০ শতাংশ পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। কিন্তু সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজের বহু পড়ুয়ারই পর্যাপ্ত হাজিরা ছিল না। উপাধ্যক্ষা মহম্মদি তরন্নুমের বক্তব্য, পড়ুয়াদের উপস্থিতির তালিকা আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল। তার পরেও অনেকে ক্লাস করতে অনীহা দেখান।
বিতর্কের সূত্রপাত কলেজের নতুন পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর দায়িত্ব নেওয়ার পর। উপাধ্যক্ষার অভিযোগ, সভাপতি হয়েই পরিচালন সমিতির সভাপতি ঘোষণা করেন— যাদের অন্তত ৪০ শতাংশ হাজিরা রয়েছে, তারা পরীক্ষায় বসতে পারবে। এর পরেই বুধবার ৪০ শতাংশের কম উপস্থিতি থাকা পড়ুয়ারা উপাধ্যক্ষাকে ঘেরাও করেন। সভাপতির সঙ্গে আলোচনার আশ্বাসে বুধবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ উঠলেও, বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
বৃহস্পতিবার কলেজে এসে ৪০ শতাংশের বেশি হাজিরা থাকা পড়ুয়াদের সঙ্গে বৈঠক করেন সভাপতি। অভিযোগ ওঠে, পরীক্ষায় বসার ছাড়পত্র পাওয়া পড়ুয়াদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে নেওয়ার কথা বলা হয়। তবে উপাধ্যক্ষা এই আর্থিক জরিমানার মতো পদক্ষেপে অসম্মতি জানান। এর পরেই সব পড়ুয়াকে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়ার দাবিতে নতুন করে ঘেরাও ও বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে কম হাজিরা থাকা সত্ত্বেও কলেজে পরীক্ষা হয়েছে, হঠাৎ কড়াকড়ি করায় তাঁদের একটি বছর নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে অধ্যাপকদের একাংশের মতে, নিয়ম না মেনে এমন দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
যদিও জরিমানার অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন গভর্নিং বডির সভাপতি কৌস্তভ বাগচী। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিভ্রান্তি রুখতে ৪০ শতাংশের নিয়ম ভাবা হলেও বার কাউন্সিলের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলাই জরুরি। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, “আমার নির্দেশে কোনও পড়ুয়ার ওপর জরিমানার অর্থ ধার্য করা হয়নি, এই নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে কলেজ প্রশাসনের প্রস্তুত করা শর্তসাপেক্ষ অঙ্গীকারপত্র (আন্ডারটেকিং) জমা দিয়ে ৭৫ শতাংশের কম উপস্থিতি থাকা পড়ুয়াদের পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।” তবে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ও পড়ুয়াদের অনড় অবস্থানের টানাপড়েনে শিয়ালদহের এই ঐতিহ্যবাহী আইন কলেজে অচলাবস্থা এখনও জারি।















