শহরে ফের রহস্যমৃত্যু। গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন এক অভিজাত আবাসনের সুইমিংপুলে ১৫ বছরের এক নাবালিকার দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান আবাসনের আটতলা থেকে পড়ে গিয়ে নীচের বারান্দায় ধাক্কা খেয়ে শেষে সুইমিং পুলে পড়ে যান কলকাতার এক নামি স্কুলের ছাত্রী। আত্মহত্যা নাকি কেউ ওই কিশোরীকে ঠেলে ফেলে দিয়েছিলেন তা স্পষ্ট নয়। তদন্ত শুরু হয়েছে। 

আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীর কথা অনুযায়ী, রাতে নিস্তব্ধতার মাঝে আচমকাই তাঁরা সুইমিংপুলে ভারী কিছু পড়ার শব্দ পেয়ে ছুটে যান। এরপর কিশোরীকে জল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা জানান নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে। তদন্তে নেমে পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশ ১৫ বছরের স্কুল পড়ুয়ার মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। আর তারপরেই হাতে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে ঘটনার সময় ওই ফোনের হোয়াটস অ্যাপ অ্যাক্টিভ ছিল!পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আপাতত মনে করছে, কিশোরী আটতলা থেকেই পড়েছিল। তিনি থাকতেন ৬ তলায়, কিন্তু কীভাবে তিনি ছয় তলা থেকে গভীর রাতে আট তলার বারান্দায় পৌঁছলেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। 

আবাসনে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও যে অংশের বারান্দায় ঘটনাটি ঘটে, তা ক্যামেরার আওতায় ছিল না। এখনও পর্যন্ত কোনও সুইসাইড নোট বা অন্য কোনও লেখা উদ্ধার হয়নি। তাই নাবালিকা আত্মহত্যা করেছেন কিনা সে ব্যাপারে এখনই নিশ্চিত হতে পারছেন না তদন্তকারীরা। আবাসনের ছ'তলার ঠিক নীচের একটি বারান্দায় রক্তের দাগও দেখতে পান তদন্তকারীরা। তদন্তে জানা গিয়েছে বছর পাঁচেক আগে নাবালিকার বাবা মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। মৃতা বাবার সঙ্গেই থাকতেন। দশম শ্রেণীর ছাত্রী গত কয়েকদিন ধরে পরীক্ষা নিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।মৃত কিশোরীর মা থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করেছেন।