কলকাতা পুরসভায় (KMC) তাড়াহুড়ো করে ডিলিমিটেশন করা হচ্ছে। আসলে এটার উদ্দেশ্য বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়া। ওয়ার্ড বিন্যাসে অসঙ্গতি নিয়ে এমনই অভিযোগ করলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। কেএমসিতে ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত শুনানি চলছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর থেকে এর জন্য ১০ জন অফিসার দেওয়া হয়েছে। বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম এবং কংগ্রেস দলের প্রতিনিধিরা অভিযোগ জানিয়েছেন। শুনানির ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন কলকাতা পুরসভার কমিশনার ও প্রশাসক স্মিতা পান্ডে। আজ শনিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুনানি হয়।
এদিন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন,এই লিমিটেশনে চূড়ান্ত অসঙ্গতি রয়েছে। বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে বিজেপির চাপেই করা হচ্ছে। পপুলেশন অনুযায়ী শুনানি হওয়া উচিত। কিন্তু সেটা বাদ দিয়ে ভোটার অনুযায়ী করা হচ্ছে। যে যে জায়গায় আমাদের তরফ থেকে ক্লারিফিকেশন চাওয়া হয়েছে, উত্তর দেওয়ার জায়গায় এই অফিসাররা নেই। বেলেঘাটার বিধায়কের আরও অভিযোগ, বিজেপিকে সুবিধে পাইয়ে দেওয়ার জন্য বেশ কিছু জায়গায় ধর্ম ও ভাষার ভিত্তিতে ভাগ করা হচ্ছে। বেশিরভাগ কাজের ক্ষেত্রেই কোন যথাযথ ব্যাখ্যা নেই। তিনি বলেন, উত্তর কলকাতার তরফ থেকে অভিযোগ জমা দেয়া হয়েছে তাই ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনের সময় যেন খবর দেওয়া হয় সেই অনুরোধ করা হয়েছে পুরসভাকে।
রাজ্যে যেহেতু জনগণনা চলছে তাই তার মাঝে পুরসভার এই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস চালু করার মধ্যে বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। কুণাল স্পষ্ট বলেন, সেন্সাস প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পুরসভার ডিলিমিটেশন করা যায় না। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে সব মিলিয়ে একটা জগাখিচুড়ি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন কুণাল।
শিক্ষার ক্যাগ রিপোর্ট প্রসঙ্গে বিধায়ক বলেন, যদি কোথাও কোনও ভুল বা অনিয়ম হয়ে থাকে তবে প্রশাসনিকভাবে তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু শিক্ষার প্রসারে ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনীয় বই খাতা পেন্সিল দেওয়া থেকে শুরু করে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ও হয়েছে তৃণমূল সরকারের আমলে। যদি কোনও অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নিতে তো কেউ বারণ করছে না। এদিন ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বকেয়া ভাড়া সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে কুনাল জানান, এই বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। তবে শহর কলকাতায় যত অফিস চলছে তাদের সবার ভাড়া, লাইসেন্স সব ঠিক আছে কিনা সবগুলি একইসঙ্গে চেক করা হোক বলে দাবি করেন তিনি। সাফ বলেন, নিশ্চয়ই বেআইনি কিছু কেউ সমর্থন করবেন না। কিন্তু যখন বোঝা যায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনও একটি দল এবং কোনও একজন নেতাকে কখনও পুলিশ কখনও দমকল আবার কখনও গুন্ডা পাঠানো হচ্ছে, তখন কেসটার ম্যাজিকটা সেখানে সেকেন্ডারি হয়ে যায়। পলিটিকাল টার্গেট পলিটিক্যাল মোটিভটা প্রায়োরিটি হয়ে দাঁড়ায়।
















