খাবারের মান নিয়ে অভিযান চলছে কলকাতায়। পচা খাবার, ছত্রাক, আরশোলা-ইঁদুরের উপদ্রব থেকে শুরু করে খাবারে অনুপযুক্ত উপাদান মেশানোর অভিযোগ-সহ একাধিক অনিয়মের প্রমাণ মিলতেই কলকাতার প্রায় ৪০টি রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানের লাইসেন্স (Licence Suspended) সাসপেন্ড করল পুরসভা ( Kolkata Municipality)। তালিকায় রয়েছে শহরের একাধিক পরিচিত নামও। নাগেরবাজারের আরসালান, রিপন স্ট্রিটের করিমস, কলকাতা পুরসভার কাছে নিজামস এবং ইএম বাইপাসের ধারে শিমলা বিরিয়ানি-র মতো রেস্তোরাঁর লাইসেন্সও সাসপেন্ড করা হয়েছে। পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, ৪০ রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে বলরাম মল্লিক, মিষ্টিমুখ, বিগ বস, গিরীশচন্দ্র দে-র মতো একাধিক নাম।
স্বাস্থ্যকর পরিবেশ না থাকায় সাসপেন্ড গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতার বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে অভিযান চালাচ্ছিল স্বাস্থ্য দফতর এবং পুরসভা (Kolkata Municipality)। স্মিতা পাণ্ডে জানান, ১-৭ সেপ্টেম্বর ফুড সেফটি সপ্তাহ পালন করা হয়েছে। ৫৯২ জায়গায় অভিযান চলেছে। ১২২৪ কেজি খাবার নষ্ট হয়েছে। পচা খাবার বন্ধ করতে পুরো টিম কাজ করছে। গত সাত দিনে মোট ১৬৭টি রেস্তরাঁ ও খাবারের হোটেলে অভিযান চালানো হয়েছে। সেই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অনুপযুক্ত খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার করা হয়। আর সেই অভিযানে প্রায় ১৩০০ কেজি খাদ্যসামগ্রী নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কোথাও পচা খাবার, কোথাও খাবারে ছত্রাকের সন্ধান মিলেছে। আবার কোনও কোনও জায়গায় খাবার সংরক্ষণের জায়গায় আরশোলা ও ইঁদুরের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছিল। ফলে খাবারের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। শুধু তাই নয়,অভিযানে আরও গুরুতর কিছু অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও খাবারে অনুপযুক্ত উপাদান মেশানোর প্রমাণ মিলেছে। এমনকী বিরিয়ানিতে বাড়ির দেওয়ালে ব্যবহৃত রং মেশানোর অভিযোগও সামনে এসেছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।
এই সমস্ত অনিয়মের জেরেই প্রায় ৪০টি রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। তালিকায় নামী রেস্তোরাঁ থাকায় স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে পুরসভা সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই লাইসেন্স সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত আপাতত সাময়িক। বুধবার একটি বিশেষ কর্মশালা হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁগুলির পরিস্থিতি, খাবারের গুণমান এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলি পর্যালোচনা করা হবে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। অর্থাৎ, শহরের নামী রেস্তরাঁ হলেও খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধির ক্ষেত্রে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এদিনের লাইসেন্স বাতিল এবং সাসপেন্ড সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করল কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipality)।














