দুর্গাপুজোর (Durga Puja) প্রাক্কালে বাংলার শিরোনামে বাগেশ্বর বাবা (Bageshwar Baba)। বাঙালির খাদ্যাভ্যাস এবং আমিষ আহার নিয়ে স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাগেশ্বর বাবার বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যম। পুজো মণ্ডপের আশেপাশে আমিষ খাবার বন্ধ এবং আমিষভোজী বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বা ভেকধারী বলে কটাক্ষ করার প্রতিবাদে এবার সরাসরি সুর চড়ালেন বাংলার জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী মেখলা দাশগুপ্ত (Popular Bengali singer Mekhla Dasgupta)। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাগেশ্বর বাবার নাম না করে অত্যন্ত চাঁচাছোলা ভাষায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি হাওড়ার লিলুয়ায় এক ধর্মীয় সভায় যোগ দিতে এসে মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী (বাগেশ্বর বাবা) দাবি করেন, দুর্গাপুজো তথা নবরাত্রির সময়ে যারা মণ্ডপের আশেপাশে আমিষ খান, তারা আসলে ভণ্ড। কলকাতার সনাতনীদের এই প্রথার বিরুদ্ধে সরব হওয়ার এবং আমিষ খাবার বয়কট করার ডাকও দেন তিনি। এই মন্তব্যের পরই বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির ওপর আঘাতের অভিযোগ তুলে সোচ্চার হয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ। ধর্মগুরুর এই নিদানকে একেবারেই মেনে নিতে পারেননি গায়িকা মেখলা দাশগুপ্ত। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেখলা লেখেন, “আমিষ নিয়ে ভেজিটেরিয়ানরা এত বাতেলা মারে… তারপর দেখা যায় গোমাতার ছেলে সন্তান (beef) হলে বিদেশে এক্সপোর্ট হয়ে যায়।”
সনাতন ধর্মের উদারতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “যে ধর্মে গাছকে পুজো করা হয় তুলসী রূপে, পাথরকে পুজো করা হয় শালগ্রাম রূপে, সেখানে নিরামিষের নামে এত সংকীর্ণতা মানায় না।” তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “সনাতন ধর্ম আসলে এতটাই বিশাল (vast) যে শুধু ঘাস খাওয়া মাথায় পুরোটা ধরা সম্ভব না! ‘বুক ঠুকে বলতে পারি এত লিবারেল (liberal) ধর্ম পৃথিবীতে আর দুটো নেই। এখানে রজস্বলা দেবীরও (কামাখ্যা) পুজো হয়, একদিকে শিব সর্বত্যাগী তো অন্যদিকে বিষ্ণু সমৃদ্ধির দেবতা।” নিরামিষ আহারের দোহাই দিয়ে যারা আমিষভোজীদের ছোট করার চেষ্টা করেন, মেখলার এই বক্তব্য মূলত তাদের দিকেই এক বড় বার্তা বলে মনে করছে সাইবার দুনিয়া।
বাগেশ্বর বাবার এই ফতোয়া নিয়ে ইতিপূর্বেই বঙ্গ রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বহিরাগত কারোর পরামর্শে বাঙালির সংস্কৃতি বা খাদ্যাভ্যাস বদলে যাবে না এবং ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসে নাক গলানোর অধিকার কারোর নেই। এমনকি এই মন্তব্যের জেরে বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে কলকাতার ভবানীপুর থানায় ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে এফআইআর-ও দায়ের করা হয়েছে। তার মাঝেই বিনোদন জগৎ থেকে মেখলার এই তীব্র আক্রমণ বিতর্ককে আরও উস্কে দিল।














