ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (Ethanol-blended petrol) চালু হওয়ার পর থেকেই নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নানা প্রশ্নও তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। গাড়ির মাইলেজ কমে যাওয়া, ইঞ্জিনের ক্ষতি হওয়া এই সব আশঙ্কা করে অনেকেই এক্সপি ১০০ (XP 100) অনেক বেশি দাম দিয়ে কিনছে। তারই মধ্যে কেন্দ্র সরকার ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল কর্মসূচি নিয়ে উঠা সমালোচনার জবাব বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ইথনাল নিয়ে যে আশঙ্কাগুলি ছড়ানো হচ্ছে তার বেশিরভাগটাই বিভ্রান্তিকর তথ্যের উপর ভিত্তি করেই তৈরি। এবং ই২০ চালুর সিদ্ধান্ত সরকার কখনই তাড়াহুড়ো করে নেয়নি।
সরকারের দাবি, ভারতে ইথানল মিশ্রণের পরিকল্পনা নতুন নয়। ২০০১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প শুরু হয়েছিল। এরপর ধাপে ধাপে ৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি চালু হয় এবং ২০১৮ সালের জাতীয় বায়োফুয়েল নীতির পর উৎপাদন, পরিকাঠামো এবং সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। কেন্দ্রের মতে, তেল বিপণন সংস্থা, গাড়ি নির্মাতা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরই E20 বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই এটিকে হঠাৎ বা অপরিকল্পিত পদক্ষেপ বলা ঠিক নয়।
গাড়ির ইঞ্জিনের (Engine) উপর E20-র প্রভাব নিয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। তাদের দাবি, দেশের গাড়ি নির্মাতারা E20 জ্বালানির উপযোগিতা পরীক্ষা করে অনুমোদন দিয়েছেন এবং ওয়ারেন্টিও বহাল রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত মাইলেজ কমতে পারে বলে স্বীকার করলেও সরকারের বক্তব্য, E20-র অকটেন মান (Octane Rating)বেশি হওয়ায় ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা উন্নত হয়, দূষণ কমে এবং জ্বালানির দহন আরও পরিষ্কার হয়। একই সঙ্গে সরকার জানিয়েছে, আলাদা করে সাধারণ পেট্রোল, E10 ও E20 এই তিন ধরনের জ্বালানির জন্য আলাদা সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বাস্তবসম্মত নয়।
E20 র দাম সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় কম নয় কেন, সেই প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা দিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের বক্তব্য, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ইথানল তুলনামূলক বেশি দামে সংগ্রহ করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে (International Market) অপরিশোধিত তেলের দাম কম থাকলে E20 উৎপাদনের খরচ অনেক সময় বেশি পড়ে। তবে এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য পাম্পের দাম কমানো নয়, বরং আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করা। সরকারের দাবি, বর্তমানে পেট্রোলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ইথানল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম পড়ছে।
কেন্দ্রের মতে, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল কর্মসূচির সুফল শুধু জ্বালানির ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। এর ফলে অপরিশোধিত তেল আমদানি কমছে, পরিবেশ দূষণ কমছে, কৃষকদের আয় বাড়ছে এবং দেশের জ্বালানি স্বনির্ভরতার পথ আরও মজবুত হচ্ছে। তাই দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, শিল্পমহলের পরামর্শ এবং ধাপে ধাপে চালু হওয়া E20 কে ঘিরে বিভ্রান্তির বদলে এই পেট্রোলের ব্যবহার বাড়ানোর উপরই জোর দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্র।
















