ককরোচ জনতা পার্টির(CJP)  সংসদ অভিযান ঘিরে তাণ্ডব দিল্লির যন্তর মন্তরে। নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সিজেপির সংসদ অভিযানের কর্মসূচির জেরে দিল্লি পুলিশ ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করেছে। তাও ঠেকাতে পারছেনা আরশোলাদের। এরমধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির ‘চলো সংসদ’ অভিযানে পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ। 

এদিকে, এদিন সংসদ অভিযানের আগে ককরোচ পার্টির (সিজেপি) তরফে দাবি করা হল, কেন্দ্রের তরফে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে কেন্দ্রের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। সংসদ অভিযানের ঠিক আগে সিজেপির এই দাবি শোরগোল ফেলে দিয়েছে। সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসের দাবি, ‘তারা অনেক দেরিতে এসেছেন ঠিকই, তবে আমরা মন খুলে বলেছি। জানিয়েছি, আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছুক। এখনও পর্যন্ত ওদের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্টতা আসেনি। সিদ্ধান্ত এখন সরকারের।’ 

যন্তর-মন্তরে মিছিল শুরুর জন্য জমায়েত শুরু হতেই লাঠিচার্জ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করেছে পুলিশ। এই প্রতিবাদ মিছিল স্থলে এ দিন সকালে দেখা যায় আজাদ সমাজ পার্টি-কাশীরামের সভাপতি ও সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে। নয়াদিল্লি জুড়ে ১৬৩ ধারা জারি।

জমায়েত শুরু হতেই পুলিশ বাধা দিতে শুরু করে। তবে কোনওভাবেই আন্দোলনকারীদের আটকানো যাচ্ছে না। এরপরই চলে লাঠিচার্জ। ২০ জুলাই সংসদে বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন। সিজেপি এই দিনের কর্মসূচির ঘোষণা অনেক আগেই করে দিয়েছিল। প্রায় এক মাস ধরে চলা নিট কাণ্ডের প্রতিবাদ যত দিন এগিয়েছে তত তীব্র হয়েছে। সংসদ অভিযান রুখতে ৫,০০০-এরও বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আনা হয়েছে জলকামানও। এদিকে, সিজেপির অভিযানকে 'অবৈধ' বলে মিছিলে অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। 

জুন মাসের শেষ লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক যন্তরমন্তরে আমরণ অনশনে বসেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতিও হয়েছে। অবশেষে ২১ দিনের মাথায় গত শনিবার হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে দিল্লি পুলিশ সোনমকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। এনিয়েও বিতর্ক হচ্ছে।

এদিকে আজ সকালে অনশন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়ে ৩টি শর্ত দিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। হাতে লেখা একটি খোলা চিঠি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তিনি। যেখানে লেখা, “আপনারা জানতে চাইছেন আমি অনশন কবে ভাঙব। আগেই বলেছিলাম, আমি ২০ জুলাই অনশন ভাঙতে পারি যদি সরকার শিক্ষাব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতাগুলির দায় নেয়। বা আমি এবং সিজেপি নেতৃত্ব সংসদে যেতে পারলে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-সাংসদেরা বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনার আশ্বাস দেন বা শারীরিক এবং অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে আমি সংসদে যেতে না-পারলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদরা হাসপাতালে এসে আমার সঙ্গে দেখা করে ওই আশ্বাস দেন।”