মহারাষ্ট্রের কায়দায় বাংলায় বিরোধীদের ভাঙার চক্রান্ত করেছে বিজেপি, অভিযোগ শাসকদল তৃণমূলের। এবার বাংলার ছকে মহারাষ্ট্রে বিরোধী শিবিরে ফাটল চওড়া হচ্ছে। সৌজন্যে বিজেপির জোটসঙ্গী একনাথ শিণ্ডে। মহারাষ্ট্রের বিরোধী জোটে থাকা শরদ পাওয়ারের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে বিরাট ক্ষোভ মহাবিকাশ আঘাড়ীর মঞ্চে। পাওয়ার শিবিরের দিকে আঙুল তুলেছেন শিবসেনা উদ্ধব গোষ্ঠী। বুধবার দুপুরে মুম্বইয়ের বিধানসভা ভবনে শিণ্ডের দফতরে গিয়ে দেখা করেন প্রবীণ নেতা শরদ পাওয়ার। ২০২২ সালে শিবসেনা ভেঙে উদ্ধব ঠাকরেকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল শিণ্ডে। তাঁর ঘরে পাওয়ারের এই সাক্ষাৎ একেবারেই মেনে নিতে পারছে না উদ্ধব শিবির। শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "শিণ্ডের দফতরে এই বৈঠক আমাদের দলনেতাদের আহত করেছে। এটি আদতে 'বিশ্বাসের সঙ্গে ঘাতকতা করা ব্যক্তিদের' মহিমান্বিত করার সমান।" এর ফলে পাওয়ার নিজের বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। 

জোটের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে শুক্রবার কংগ্রেস নেতা পৃথ্বীরাজ চৌহান দাবি করেন, শরদ পাওয়ারের দলের ৫-৬ জন বিধায়ক নাকি অত্যন্ত অধৈর্য হয়ে পড়েছেন দল ছাড়ার জন্য। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, এই বিধায়কেরা অজিত পাওয়ারের শিবিরে যোগ দিতে পারেন। সম্প্রতি শরদ পাওয়ারের নাতনির (সুপ্রিয়া সুলের কন্যা) সঙ্গে এক বিজেপি নেতার ছেলের বিয়ে হওয়ায় এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

যদিও কংগ্রেসের এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন শরদপন্থী এনসিপি নেতা জয়ন্ত পাটিল। তিনি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আমাদের সব সাংসদ-বিধায়ক ঐক্যবদ্ধ আছেন। অন্য দলের নেতার এই ধরনের মনগড়া আন্দাজ করা ঠিক নয়।" দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি রাজনৈতিক নয়, বরং এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত বৈঠক ছিল। এদিকে এক নাটকীয় মোড়ে, বুধবার বৈঠকের পরেই রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে। বৃহস্পতিবার তাঁকে হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়।