Site Logo

ধর্ষণের চেষ্টা নিয়ে পাটনা হাই কোর্টের বিতর্কিত রায়ে কড়া বার্তা শীর্ষ আদালতের

EBBS Desk··1 min read
ধর্ষণের চেষ্টা নিয়ে পাটনা হাই কোর্টের বিতর্কিত রায়ে কড়া বার্তা শীর্ষ আদালতের

যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত একটি মামলায় পাটনা হাইকোর্টের (Patna High Court) বিতর্কিত পর্যবেক্ষণকে ঘিরে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। হাইকোর্টের রায়ে কোনও নারীর স্তন স্পর্শ করা বা জোরপূর্বক তাঁর সালোয়ার খোলার চেষ্টা করা 'ধর্ষণের চেষ্টা' না বলে 'শ্লীলতাহানি'র আওতায় রাখার পর্যবেক্ষণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। বিচারকদের আরও সংবেদনশীল হওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত আইনি গবেষণার ভিত্তিতে রায় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। 

Sponsored

Sranchi In Article

এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনেন প্রবীণ আইনজীবী শোভা গুপ্তা (Senior lawyer Shobha Gupta)। তিনি জানান, ‘দুর্ভাগ্যবশত এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করার পরেও অতি সম্প্রতি পাটনা হাইকোর্ট একই ধরনের ঘটনা ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এমন একটি রায় দিয়েছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে এই ধরনের অসংবেদনশীল রায় প্রায়শই সামনে আসছে।’ শুনানির (শুনানির ) সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Chief Justice Surya Kant) বলেন, বিচারকদের দায়িত্ব কেবল রায় ঘোষণা করা নয়, তার আগে সংশ্লিষ্ট আইন, পূর্ববর্তী নজির এবং বিচারব্যবস্থার নির্দেশিকাগুলি ভালোভাবে পর্যালোচনা করাও জরুরি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যৌন অপরাধের মামলায় বিচারকদের জন্য ন্যাশনাল জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমির (National Judicial Academy) তৈরি নির্দেশিকা এবং সুপ্রিম কোর্টের আগের পর্যবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট রায়ে আদৌ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না। তাঁর মতে, এ ধরনের মামলায় অসংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি বিচারপ্রক্রিয়ার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এরপর সুপ্রিম কোর্ট জানায়, যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলার তদন্ত থেকে বিচার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে এনজেএ র সুপারিশ এবং হ্যান্ডবুক অনুসরণ করা উচিত। সেই নির্দেশিকা দেশের সমস্ত হাইকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্য সরকারকে থানাগুলিতে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য, অভিযোগ দায়ের থেকে তদন্তের প্রতিটি স্তরে একরকম নীতি অনুসরণ নিশ্চিত করা।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় পাটনা হাইকোর্টের ৯ জুলাইয়ের একটি রায়কে কেন্দ্র করে। ২০০৮ সালের একটি মামলার পুনর্বিচারের সময় হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের দেওয়া ধর্ষণের চেষ্টার দণ্ড বাতিল করে। অভিযোগ ছিল, অভিযুক্ত এক তরুণীকে একটি স্টুডিয়োর ভিতরে নিয়ে গিয়ে তাঁর পোশাক খুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ওই তরুণীর বুকে হাত দেয়। তবে আদালতের মতে, অভিযোগে এমন কোনও প্রত্যক্ষ পদক্ষেপের উল্লেখ বা প্রমাণ ছিল না, যা আইন অনুযায়ী ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে গণ্য করা যায়। সেই কারণেই ধর্ষণের চেষ্টার পরিবর্তে শ্লীলতাহানির ধারা প্রযোজ্য হতে পারে বলে মত দেয় হাইকোর্ট। এই পর্যবেক্ষণই পরে সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে পড়ে।

শুনানির শেষে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যৌন অপরাধের মামলায় আইনের প্রয়োগ ও বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রয়োজনে আরও বিস্তৃত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় সংবেদনশীলতা ও আইনি সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from দেশ

View All →