”আমাদের কাছে ভিডিও আছে। কোনও শ্লীলতাহানি হয়নি। আমাদের নেতা-কর্মীদের টানতে টানতে নিয়ে গিয়েছিল।” মঙ্গলবার, শেক্সপিয়র সরণি থানায় জিজ্ঞাসাবাদ সেরে বেরিয়ে সাফ জানালেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের উপরে থাকা বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র গোলমালের জেরে এদিন বেলা সোয়া ১২টা নাগাদ শেক্সপিয়ার সরণী থানায় হাজিরা দেন তিনি। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বলেন, ”আমাদের গ্রেফতার করে জেলে ঢুকিয়ে রাজত্ব করবে ভাবলে মূর্খের স্বর্গে বাস করছে।”
জিজ্ঞাসাবাদ সেরে বেরিয়ে বিজেপিকে (BJP) নিশানা করে অভিষেক বলেন, ”মানুষের ভোটে জিতে এলে এত ভয় কীসের?” সরাসরি আক্রমণ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে পারবে না তাই পিছনে পুলিশ লাগিয়েছে রাজ্য সরকার।
ক্যামাক স্ট্রিট অফিসে পুলিশের (Police) অবৈধ অনুপ্রবেশ, জোর করে বিলবোর্ড ভাঙা, কর্মীদের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তি, কোনও নোটিশ ছাড়া গ্রেফতারের পরেই নোটিশ (Notice) দিয়ে অভিষেককে তলব করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় তাঁকে থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। এদিন সোয়া ১২টা নাগাদ সেখানে পৌঁছন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁকে দেখেই থানার সামনে উপস্থিত তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। প্রায় সাড়ে ৬টা জিজ্ঞাসাবদের পরে বেরিয়ে প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলে অভিষেক বলেন, যে তৎপরতা গত কয়েকদিন ধরে দেখছি, সেই তৎপরতা যদি রামপুরহাট, বা মির্জা গালিব স্ট্রিটে আগুন লাগার ঘটনায় থাকত তাহলে বারবার একই ঘটনা ঘটত না। তখন ফায়ার অডিট হয় না। আলিপুরে যেখানে ইভিএম রাখা ছিল সেখানে দোতলা থেকে ন'তলায় আগুন লাগল। কারা লাগাল? সেখানে কী ছিল? ৪ হাজার ইভিএম, ৪ হাজার কন্ট্রোল ইউনিট, ৪ হাজার ব্যালট ইউনিট রহস্যজনকভাবে পুড়ে ছারখার হয়ে গেল। তখন ফায়ার অডিট হয় না। টনক নড়ে না রাজ্য প্রশাসনের। বিষ্ণুপুরে এসআইআরে (SIR) ১০ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। বিজেপি জিতেছে ৪০০ ভোটে। ওই ইভিএমগুলি যদি থাকত, তাহলে বিজেপির মুখোশ খুলে পড়ত।
তীব্র কটাক্ষ করে তৃণমূল সাংসদ বলেন, ওদের আসল লক্ষ্য তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে হবে। সাইন বোর্ড নামাতে হবে। এমএলএ-এমপি ভাঙাতে হবে। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের জেলে ভরতে হবে।
আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়ে অভিষেক বলেন, যেভাবে হমকি দিচ্ছেন তাতে মনে হচ্ছে তিনিই এই বাংলার শেষ কথা। উনি ভুলে যাচ্ছেন, গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলেন। ভয় দেখিয়ে, চমকে-ধমকে, গ্রেফতার করে ভয় পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি করছে বিজেপি।
ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার কথা উল্লেখ করে অভিষেক অভিযোগ করেন, ”আমাদের কর্মী তৌফিককে হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক মেরেছে পুলিশ। অত্যাচার করেছে। চিকিৎসা করায়নি। এই পুলিশ সবক শেখাবে? এখনও ১৩জন জেল কাস্টডিতে রয়েছে। এভাবে কোনও আইনেই জেল কাস্টডি হতে পারে না। নোটিশ ছাড়া গ্রেফতার করা যায় না, যদি ৭ বছরের কম সময়ের কগনিজিবল অফেন্স হয়। একাধিক বেআইনি পদক্ষেপ গায়ের জোরে করেছে পুলিশ।”
জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে অভিষেক জানান, ”নিজেদের কথা আমাদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করেছিল পুলিশ। ওদের আর দোষ কী! শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে মিথ্যা বলছিল, ধরা পড়ে গিয়েছে। ভিডিও দেখিয়ে বলেছি, দেখুন পুলিশ কর্মীরা কীভাবে দলে কর্মীদের সিঁড়ি দিয়ে ছ্যাঁচড়াতে ছ্যাঁচড়াতে নিয়ে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসকে এত ভয় কেন? ওদের লক্ষ্য তৃণমূলকে ভাঙতে হবে। তা যেভাবে পার করো। ওরা যদি ভেবে থাকে আমাদের জেলে ঢুকিয়ে, হুমকি দিয়ে জিতে যাবে, তাহলে মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। বিজেপি জানে ওরা মানুষের ভোটে জিতে আসেনি। জিতেছে অন্যায় এসআইআর আর কাউন্টিংয়ে কারচুপি করে। সেই কারণেই তো তৃণমূলের উপর এই আক্রমণ। বিজেপির যা ক্ষমতা আছে করুক। রাস্তাতেই দেখা হবে।”
এই জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) সঙ্গে বলেন, অভিষেক মাথা উঁচু করে গিয়েছেন। টার্গেট করে পার্টি অফিসে গিয়ে হ্যারাস করেছে বিজেপির প্রশাসন। সোমবার শিয়ালদহ পার্টি অফিসে বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটে গিয়েছে সেদিকে প্রশাসনের কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। জোর করে দেখানো হচ্ছে ফায়ার অ্যলার্ম বাজছে না, জল পড়ছে না। অথচ কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে সব স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। জোর করে বিল বোর্ড ভেঙেছে। প্রতিহিংসাপরায়ণভাবে অভিষেক এবং কয়েকজন নেতাকে নোটিশ দিয়েছে। অভিষেক ওদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। কিন্তু অভিষেক ওদের যে প্রশ্ন করছেন তার উত্তর ওরা দিতে পেরেছেন কি? প্রশ্ন তোলেন কুণাল।
















