পুজোর আগে সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমের ডেস্কের কর্মীদের জন্য সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নবান্ন সভাগৃহে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যবিমা ও পেনশন নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মাসিক পেনশন আড়াই হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হল রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সাংবাদিকদের পেনশন বৃদ্ধির কথা জানিয়েছিলেন। ক্ষমতায় আসার তিন মাস পরই সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করল বিজেপি সরকার।
সাংবাদিকদের অবসরকালীন পেনশন আড়াই হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হল। এবার থেকে অবসরের পর সাংবাদিকরা ৫ হাজার টাকা পেনশন পাবেন। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে চালু করা হলো। এই প্রকল্পের আওতায় সকল সাংবাদিক অন্তর্ভুক্ত হবেন। এমনকী যাঁরা নিউজ ডেস্কে কাজ করেন, যাঁদের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নেই, তাঁরাও এই সুবিধা পাবেন। এর আগে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড থাকা সাংবাদিকরা অবসরের পর পেনশন পেতেন। সেই সংখ্যাটা ছিল ১৪৫। এখানেই শেষ নয়, প্রতিবছর পুজোর আগে কলকাতা ও জেলার যে সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড রয়েছে তাঁরা সরকারের তরফে সামান্য টাকা বোনাস দেওয়া হত। এবার তা বাড়িয়ে করা হল ৩০০০ টাকা। এখানেই শেষ নয়। এক্ষেত্রেও আর অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের প্রয়োজনীয়তা থাকছে না। রাজ্যের যে সাংবাদিকরা আবেদন করবেন, তাঁরা সকলেই এই পুজো ‘বোনাস’ পাবেন।
এর পাশাপাশি মঙ্গলবারের অনুষ্ঠান থেকে আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের ঘোষণা করেন। আয়ূষ্মান ভারত না পেলে সাংবাদিকরা সপরিবার মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার সুবিধা পাবেন। আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে রাজ্যের ১৯০০ হাসপাতালে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের হাতে স্বাস্থ্যবিমার কার্ডও তুলে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তার শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার, তথ্য সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীও উপস্থিত ছিলেন।
এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সমালোচনা করবেন, গঠনমূলক আলোচনাও করবেন। প্রয়োজনে দেখা করতে আসবেন। তবে দেশপ্রেমের প্রশ্নে সকলে কঠোর নীতি নিয়ে চলবেন। দেশ দূর্বল হবে, দেশ অস্থির হবে, এমন কাজ আমরা কেউ করব না। আমার সমালোচনা করুন, দলের করুন, কিন্তু দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে কঠোরতা নিয়ে চলুন।” একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমন কোনও ভাষা ব্যবহার করা যাবে না যাতে কারও ধর্মীয় আস্থায় আঘাত হয়।
















