রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনকে ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগের শেষ নেই। নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছে বিরোধী দলগুলি। তাদের অভিযোগ, কার্যত বিরোধীশূন্য নির্বাচন করার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এরই  মধ্যে রেজিনগরে (Rejinagar) ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করল বাম শরিক আরএসপি। কমিশন ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে তারা।

সোমবার আরএসপির রাজ্য সম্পাদক তপন হোড়ের (Tapan Hore) স্বাক্ষর করা প্রেস বিবৃতিতে দলের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা এবং নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনের ভূমিকা, দু'বিষয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দল। আরএসপির অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের দুই উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত 'নিন্দনীয়'।

রেজিনগরে আরএসপির প্রার্থী ছিলেন বিকাশ চন্দ্র মিশ্র। দলের দাবি, মনোনয়ন স্ক্রুটিনির সময় তাঁকে "কোদাল-বেলচা" প্রতীক দেওয়া হবে না, এমন কোনও কথা জানানো হয়নি। কিন্তু ১৯ তারিখ দুপুরে আচমকাই জানানো হয়, নিয়মের কারণে ওই প্রতীক দেওয়া সম্ভব নয়। পরে আরএসপির প্রার্থীর জন্য ‘টর্চ’ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে আরএসপি। তাদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন এভাবে প্রতীক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিজেপির স্বার্থ রক্ষায় নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।

রেজিনগর নিয়ে বামেদের অন্দরেও অবশ্য টানাপড়েন ছিল। এই কেন্দ্রে কোন শরিক প্রার্থী দেবে, তা নিয়ে সিপিআইএমের সঙ্গে আরএসপির মতপার্থক্য তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত দু'দলই আলাদা প্রার্থী দেয়। আরএসপির হয়ে বিকাশ চন্দ্র মিশ্র এবং সিপিআইএমের হয়ে আইনজীবী সাঈদ ভোটের ময়দানে নামেন।

ভোটার তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আরএসপি। দলের দাবি, এসআইআর ট্রাইব্যুনালে এখনও বহু আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে অনেক মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই নির্বাচন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। 

প্রসঙ্গত, এর আগে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরও সরাসরি প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ এই কেন্দ্রে দলের প্রার্থী। দলের কর্মীদের পুলিশি হয়রানি ও গ্রেফতারের অভিযোগ তুলে প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হুমায়ুন। তাঁর কথায়, এবার থেকে তাঁদের প্রচার মূলত সমাজমাধ্যমেই চলবে।